কোকোর জানাজা সম্পন্ন

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আরাফাত রহমান কোকোর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকাল পাঁচটা ১০ মিনিটে জানাজা শুরু হয়। আর শেষ হয় পাঁচটা ১৫ মিনিটে। জানাজা নামাজে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে গেছে।

এরআগে গুলশান থেকে কোকোর মরদেহ বায়তুল মোকাররমে পৌঁছায় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে। বেলা পৌনে তিনটার দিকে কোকোর মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি গুলশান থেকে জাতীয় মসজিদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

এ সময় খালেদা জিয়া দরোজায় দাঁড়িয়ে ছেলের কফিন অ্যাম্বুলেন্সে তোলা দেখেন। তার চোখ দিয়ে অঝোরধারায় অশ্রু ঝরতে দেখা যায়।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে কোকোর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পৌঁছায়।

এরপর খালেদার কার্যালয়ের নিচতলার কনফারেন্স রুমে মরদেহ রাখা হয়। এ সময় মা খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

বায়তুল মোকাররমে নামাজে জানাযা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে কোকোকে।

এদিকে নিরাপত্তার কারণে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের গুলশানে কোকোর মরদেহ দেখতে আসতে নিষেধ করা হলেও হাজারো উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। অনেক সিনিয়র নেতা গুলশানে এসে ফিরে যান।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কোকোর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। বেলা সোয়া ১২টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দর থেকে রওয়ানা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে কোকোর মরদেহ বুঝে নেন তার চাচাতো ভাই মাহবুব আল আমিন ডিউ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খালেদা জিয়া মনোনিত বিএনপির পাঁচ নেতা।
এরা হলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লা আল নোমান ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় থেকে রওয়ানা হয়ে তারা পর্যায়ক্রমে বিমানবন্দরের পৌছান। কোকোর মরদেহ বহনের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সও বিমানবন্দরে পৌঁছায় যথাসময়ে।

এয়ারপোর্টে আরও উপস্থিত হন বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক এমএ মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর নাছির উদ্দীন।

কোকোর মরদেহ আসা উপলক্ষে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা যেমন বাড়ানো হয়, তেমনি সীমিত করা হয় যান ও জন চলাচল।

গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় মালয়েশিয়ায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়।