কে এই আগারওয়াল : ভারতীয় নাগরিক থাকেন দুবাইয়ে

ভারতীয় জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালের সঙ্গে কথোপকথন গোপনের দায়ে সাকিব আল হাসানকে দুই বছর নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যদিও এরমধ্যে এক বছরের শাস্তি স্থগিতও করা হয়েছে।সাকিবকে বিপদের মুখে ফেলা জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালের সর্ম্পকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে নানা তথ্য।

 

জুয়াড়ির অনৈতিক প্রস্তাব গোপন করার অভিযোগে সাকিব আল হাসানকে নিষেধাজ্ঞার সাজা দিয়েছে আইসিসি। সাকিবকে বিপদের মুখে ফেলা জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালের সর্ম্পকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে নানা তথ্য।

 

কীভাবে ক্রিকেটারদের টোপ দিয়ে আগারওয়াল ফাঁদে ফেলতেন, তিনি এখন কোথায় আছেন আর তার কাজের প্রক্রিয়াসহ কিছু তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

 

ভারতের হরিয়ানায় বাড়ি আগারওয়ালের। দেশটির ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওনে একটি ক্রিকেট একাডেমি রয়েছে তার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তার বিচরণ রয়েছে। টি-টোয়েন্টি লীগের একজন প্রমোটর হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।

 

হরিয়ানায় বাড়ি হলেও আগারওয়াল থাকেন দুবাইয়ে। সেখানেও তার ওপর নজরদারি করছে আইসিসির অ্যান্টি করোপশন ইউনিট। সূত্র জানিয়েছে, আবুধাবিতে একটি খেলার সময় সন্দেহজনক আচরণের জন্য আইসিসির রাডারে আসেন আগারওয়াল। এরপর সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পেয়ে তার ওপর নজরদারি শুরু করে সংস্থাটি।

 

জুয়ারি আগারওয়ালের প্রথম কাজ হলো এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা। এরপর খেলোয়াড়দের প্রস্তাব দেন, তিনি যে টুর্নামেন্টের সঙ্গে আছেন সেখানে খেললে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক মিলবে। প্রস্তাব গ্রহণ করলে এক পর্যায়ে আগারওয়াল খেলোয়াড়ের দলের ভেতরের খবর জানতে চান। পর্যায়ক্রমে চলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কার্যক্রম। কেউ সেই ফাঁদে ধরা দেন কেউবা প্রত্যখান করেন।

 

জানা গেছে, দীপক আগারওয়াল একজন ভারতীয় এবং জুয়াড়ি হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত।

 

এই জুয়াড়ি আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) কালো তালিকাভুক্ত। তাই তার টেলিফোন কল রেকর্ড থেকে শুরু করে চালচলন, তার থাকা-খাওয়া সবকিছুর খোঁজখবরও রয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে।

 

এই জুয়াড়ি তার অপকর্মের জন্য আটকও হয়েছেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভারতের রায়গড় শহর থেকে আরও দুই জুয়াড়িসহ আটক হয়েছিলেন তিনি। ওই সময়ে আটককৃতদের কাছ থেকে জুয়ার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করা হয়।

 

তখন ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছত্তিসগড়ের পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে জুয়াড়ি চক্রের প্রধান দীপক আগারওয়াল ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

 

ওই সময়ে তাদের কাছ থেকে জুয়ার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ল্যাপটপ, বেশ কয়েকটি মোবাইল ও ৮০ হাজার রূপি জব্দ করে পুলিশ।

 

তবে জেল থেকে বেরিয়ে থেমে থাকেননি তিনি। চালিয়ে যান জুয়া। তিনিই সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সাকিব তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও বিষয়টি গোপন রাখায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলো আইসিসি।

You Might Also Like