কেন বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা থামছে না?

বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ লেখকদের ওপর নৃশংস হামলা বন্ধ হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। অনলাইন দ্য হাফিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন নিক রবিন আরলি।

তিনি বলেছেন, গত সপ্তাহের শনিবারে রাজধানী ঢাকায় নিজ অফিসে কুপিয়ে হত্যা করা হয় প্রকাশক ফয়সল আবেদিন দীপনকে। বাংলাদেশের উদার সাহিত্যিক সমাজে এ বছর এমন বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এটি তারই একটি। এ বছরের শুরুতে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিনি অভিজিৎ রায়কে।

ওই হামলায় তার স্ত্রী ব্লগার রাফিদা আহমেদও আহত হন। তার একটি আঙুল কেটে নেয় হামলাকারীরা। তারপর থেকে চারজন লেখক, প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে ইতালিয়ান এনজিওকর্মী সিজার তাভেলা ও ৬৬ বছর বয়সী জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে। এ ছাড়া আরও অনেককে গুলি করে বা ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়েছে। দীপনকে যেদিন হত্যা করা হয় সেদিনই অন্য এক প্রকাশক ও দুজন ব্লগারের ওপর হামলা হয়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারিভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এখানে বেশির ভাগ মানুষ মুসলিম। ধর্মীয় উগ্রপন্থার উত্থানের ফলে এখানে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। অভিজিৎ রায়কে হত্যার পর প্রতিবাদে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বাংলাদেশের মিডিয়া ধর্মনিরপেক্ষ লেখকদের অধিকতর নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান জানায়। দীপনকে হত্যার পর গত সোমবার প্রকাশকরা ও বইয়ের দোকানগুলো সহিংসতা বন্ধের দাবিতে ধর্মঘট করেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সরকারের তরফ থেকে যে সাড়া মিলছে তা অপর্যাপ্ত। এ বছরের হামলা বা গত বছরের নির্বাচন থেকেও অনেক দূরে এর মূল। ২০১৩ সালের হামলাসহ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশী উদারমনা লেখকদের টার্গেটে পরিণত করেছে কট্টরপন্থিরা। প্রকাশক ও লেখকরা ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের বিপদ বাড়ছে। তা সত্ত্বেও সরকারের নির্লিপ্ততায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বাংলাদেশে হামলার পেছনে কোন কট্টরপন্থি গ্রুপ সক্রিয় অথবা এর পেছনে কতগুলো সংগঠন রয়েছে আলাদা আলাদা পরিকল্পনা সাজাতে তা অস্পষ্ট। আলাদা আলাদা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন গ্রুপ দায় স্বীকার করেছে। তবে এমন দাবির অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে কর্তৃপক্ষ একটি গ্রুপের এক নেতা ও দুই সদস্যকে আটক করেছে।

এ গ্রুপটি কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা হলো আল-কায়েদায় অনুপ্রাণিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। ওই মাসের শেষের দিকে গ্রুপটি লেখক ও এ-সংক্রান্ত কর্র্মীদের একটি লিস্ট প্রকাশ করে, যাদের তারা হত্যা করতে চায়। এখন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, তারাই সর্বশেষ হামলার পেছনে রয়েছে।

দীপনকে হত্যার জন্য দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা ইন দি ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দিকে পুলিশের সন্দেহের তীর। জাপানি ও ইতালির দুই নাগরিককে হত্যার পর এর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস। কিন্তু একইভাবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য তিনি বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পর্ককে দায়ী করেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস বিক্ষোভে শতাধিক মানুষ নিহত হন। ওই নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি গভীরভাবে সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিবেশে শেখ হাসিনা এসব হামলায় বিরোধীদের জড়িত করলেন। তবে ধর্মনিরপেক্ষ কর্মীরা বলছেন, উদারপন্থি, নাস্তিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে তারা প্রতিপক্ষকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে।

এমনটা তরা করছে বাংলাদেশের ধর্মীয় রক্ষণশীল সমাজের সমর্থন হারানোর ভয়ে। গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকার বলেন, সরকার যদি কট্টরপন্থিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তাহলে তাদের ধর্মবিরোধী হিসেবে দেখা হতে পারে- এ ভয় পাচ্ছে সরকার।

You Might Also Like