কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানতে অনীহা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর

সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরে ট্যানারি মালিকদের ব্যাংক ঋণ সুবিধা ও ঋণ পুনঃতফসিলের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ঘোষণা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাস্তবায়ন করে না বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন।

২০০৮ সালে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তরের জন্য ট্যানারি মালিকদের শর্ত সাপেক্ষে বেশ কিছু সুবিধা দিয়েছিল সরকার। এ পর্যন্ত অনেক মালিক তাদের ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তর শুরু করলেও শেষ করতে পারেনি নানা সমস্যায়।

ট্যানারি হস্তান্তরে ট্যানার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ব্যাংক ঋণ সুবিধাসহ বেশ কিছু সুবিধা চাওয়া হয় সরকারের কাছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা করলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তা মানেনি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ।

২০০৮ সালে আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে ট্যানারি স্থানান্তরে ব্যাংক ঋণ সুবিধা এবং ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তা মানেনি। এ বিষয়ে আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট মহলকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কোনো লাভ হয়নি।

এবার আবারো ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ এবং ঋণ পরিশোধের সময় আট বছর দেওয়াকে স্বাগত জানিয়ে শাহীন জানান, যদি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী সকল সুবিধা দেয় তাহলে আমরা লাভবান হবো। নইলে এ ঘোষণার কোনো মূল্য আমাদের কাছে থাকবে না উল্লেখ করেন তিনি।

ট্যানারি মালিকদের ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সোমবার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক যেসব ট্যানারি শিল্প কারখানা সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তরিত করেছে বা স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় আছে তারা এই সুবিধা পাবেন।

প্রদত্ত সুবিধার মধ্যে রয়েছে ট্যানারি মালিকদের অনিয়মিত ঋণ ব্লক একাউন্টে স্থানান্তর, মরেটরিয়াম সুবিধা প্রদান, ঋণ পরিশোধে নমনীয় সুযোগ-সূচি দেওয়া হবে। ব্লক একাউন্টে স্থানান্তরিত ঋণ এক বছর মরেটরিয়াম সুবিধা এবং পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আট বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে পারবে। গ্রেস পিরিয়ড ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে দুই বছর দাবি করা হলেও এক বছর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়, পুনঃতফসিলকৃত ঋণগুলো রফতানি বিল থেকে সমন্বয় করা যেতে পারে। তবে রফতানি বিল থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে ঋণগ্রহীতা নিজস্ব উৎস থেকে তা পরিশোধ করবে। এ ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত ঋণের ১০ শতাংশ অথবা তহবিল ব্যয়ের হার এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম সে হারে সুদ আদায়যোগ্য হবে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ আদায় না হলে ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশনিংয়ের প্রচলিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং ব্যাংক তার প্রচলিত নিয়মে ঋণ আদায় নিশ্চিত করতে পারবে।

এ সুবিধা গ্রহণ করতে হলে নিকটস্থ বাণিজ্যিক বাংকগুলোতে প্রজ্ঞাপন জারির ছয় মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। এজন্য ঋণ গ্রহীতাকে সাভারের শিল্পনগরীতে স্থানান্তরের স্ব-পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

রফতানি বাণিজ্যে নিয়োজিত ট্যানারিগুলোর ঋণ পুনঃতফসিল ও নতুন ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত ডাউন পেমেন্ট শিথিল করার বিষয়টি বণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পরিষদ বিবেচনা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেইস-টু-কেইস ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদা অনাপত্তিতে গ্রহণ করতে পারবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

You Might Also Like