কুড়িগ্রামে আগাম বন্যা : পানিবন্দী ২০ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রামে অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত পেয়েছে। ফলে জেলায় আগাম বন্যা দেখা দিয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

তলিয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক চর ও দ্বীপচর। এসব এলাকার অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও এসব এলাকার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে পানি উঠেছে। কাঁচা রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। পায়ে হেটে যেতে হচ্ছে অনেককে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার ৩টি, উলিপুর উপজেলার ৪টি, চিলমারীর ৫টি, রাজিবপুরের ৩টি ও রৌমারী উপজেলার ৪টিসহ মোট ১৯টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ৩০টির বেশি বাড়িতে পানি উঠেছে। এদিকে, পানি বাড়ার সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। গত ৪ দিনে জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুরে ও পাঁচগাছিতে নদী ভাঙ্গনে পড়েছে বেশ কিছু পরিবার এবং রৌমারী-রাজিবপুরে বালিয়ামারী বাজারের কসাই খানার এক অংশ নদীতে দেবে গেছে।

অপরদিকে, মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ পড়েছে ভাঙ্গনের কবলে। একটি মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে ভাঙ্গনের মুখে পতিত হয়েছে। এছাড়াও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ফসল পাট, পটল, তিল ও কাউনের আবাদ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

জেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় দেড়শ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাফুজার রহমান জানান, আমরা আগে থেকে পানির গতি-প্রকৃতির উপর নজর রাখছি। কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানি দ্রুত বাড়ছে।

অপরদিকে নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৫ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে। মারাত্নক বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব এখনও হয়নি বলে তিনি জানান।

You Might Also Like