কুরআনে উল্লিখিত ‘গিরিপথ অতিক্রম’মানে কী?

এখন এর তাৎপর্য হবে- যেসব লোককে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাচ্ছে তাদের উদ্ধার করা; যেসব নির্দোষ ব্যক্তি জেলে পড়ে আছে তাদেরকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করা এবং তাদের জন্য মামলার খরচ বহন করা। সেই সাথে, তাদের অন্যান্য সহায়তা দেয়া। এ ছাড়া এর তাৎপর্য দারিদ্র্য দূর করা। কেননা দারিদ্র্য গলায় আটকে থাকার মতোই কিংবা তার চেয়ে আরো খারাপ

আল্লাহতায়ালা কুরআনের সূরা বালাদে বলছেন, আল্লাহর প্রিয় পাত্র হতে হলে কষ্টসাধ্য গিরিপথ অতিক্রম করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলছেন, ‘তুমি কি জান কষ্টসাধ্য গিরিপথ কী? এটা হচ্ছে যেসব গলা আটকা রয়েছে, তা মুক্ত করা। অনাহারের দিনে এতিম আত্মীয়কে আহার প্রদান করা এবং অভাবপীড়িত মিসকিনকে খাবার দেয়া’ (আয়াত ১২-১৬)।

এখানে ‘গলামুক্ত’ করার অর্থ কি? আগের যুগে এর অর্থ ছিল- প্রধানত দাসমুক্ত করা। কেননা ইসলাম চাচ্ছিল দাসপ্রথা দ্রুত উঠিয়ে দিতে। কিন্তু এখন এর তাৎপর্য হবেÑ যেসব লোককে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাচ্ছে তাদের উদ্ধার করা; যেসব নির্দোষ ব্যক্তি জেলে পড়ে আছে তাদেরকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করা এবং তাদের জন্য মামলার খরচ বহন করা। সেই সাথে, তাদের অন্যান্য সহায়তা দেয়া। এ ছাড়া এর তাৎপর্য দারিদ্র্য দূর করা। কেননা দারিদ্র্য গলায় আটকে থাকার মতোই কিংবা তার চেয়ে আরো খারাপ। সুতরাং কেউ চাইলে কুরআনের এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরসনে সব ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে; সরকারও নিতে পারে।

এ ছাড়া সব মিসকিন এবং সব এতিমকে দারিদ্র্য থেকে উদ্ধার করা, তাদের স্বাবলম্বী করা- সেটাও আল্লাহর কাছে কষ্টসাধ্য ‘গিরিপথ অতিক্রম করা’।

ইসলামী অর্থনীতিবিদেরা দারিদ্র্যবিমোচনের জন্য নিম্নরূপ কর্মপদ্ধতির কথা বলেছেন-

এক. ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন যার মাধ্যমে অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।

দুই. সুদ বিলোপ করা, যাতে সম্পদ কিছু লোকের হাতে পুঞ্জীভূত না হয়।

তিন. জাকাত প্রতিষ্ঠা করা, যার মাধ্যমে সব দারিদ্র্যের বা যতজন সম্ভব দরিদ্রের দারিদ্র্য মোচনের ব্যবস্থা হয়। চার. যাদের কর্মসংস্থান নেই, তাদের জন্য বেকারভাতা প্রবর্তন করা। পাঁচ. ওয়াকফ আন্দোলন জোরদার করা, বিশেষ করে নগদ অর্থে ওয়াকফ করা। এ ব্যবস্থা বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে রয়েছে। এসব করা হলে দারিদ্র্য থাকার কথা নয়।

এ ছাড়া সূরা বালাদে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা হয়েছে : ক. মানুষকে কঠোর শ্রমের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। অর্থাৎ কঠোর পরিশ্রম ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে উন্নতি করা সম্ভব নয়। খ. ধৈর্য ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে (রহমত) সবাই মিলে কাজ করা। গ. যারা ঈমানদার তাদের আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ‘দক্ষিণপন্থী।’ তারা জান্নাতে যাবেন। আর যারা বামপন্থী তারা দোজখে যাবে। এসব বিষয়ও প্রণিধান করা প্রয়োজন।

আল কুরআনের এসব নির্দেশ আমাদের সবারই গুরুত্বের সাথে পালন করা উচিত, এ ধরনের অনেক নির্দেশ কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তার মতো ছড়িয়ে আছে।

লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার

You Might Also Like