কুমিল্লা সোসাইটি নর্থের বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী

প্রবাসের প্রজন্মকে বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে রাখার সংকল্প এবং স্কুল-কলেজে আরো ভালো রেজাল্টের প্রত্যাশায় অভিভাবকদের মনোযোগী হবার জন্য উদাত্ত আহবান হয় কুমিল্লা সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা ইনকের বার্ষিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে। গত ১৪ জানুয়ারি রোববার সিটির উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে বিপুল সংখ্যক কুমিল্লাবাসীর উপস্থিতিতে এ আহবান জানানো হয়। দুই পর্বে সাজানো অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি গোলাম মো: মহিউদ্দিন। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মিঠু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: এনামুল হক। মঞ্চে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মুজিব উর রহমান, সংগঠনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সরকার ইসলাম, উদযাপন কমিটির আহবায়ক কাজী আছাদ উল্যাহ, কুমিল্লা সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা ইনকের সাবেক সভাপতি প্রফেসর মনির হোসেন খান, সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন খান, সংগঠনের উপদেষ্টা জহিরুল ইসলাম, ইয়ার আহমেদ পাটোয়ারী, কুমিল্লা মহানগর সোসাইটির সভাপতি ইসতিয়াক রুমি, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী সদস্য সারওয়ার খান বাবু, শিক্ষাবিদ আব্দুর রহিম মাষ্টার, বাংলাদেশ সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম ভূঁইয়া, কুমিল্লা সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা ইনকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী রশিদ, জসিম উদ্দিন ভিপি, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি হাজী খবির উদ্দিন ভূইঁয়া, সহ সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ দুলাল, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন সরকার, সাগঠনেক সম্পাদক আমানত হোসেন আমান, কার্যকরী সদস্য ইউনুস সরকার, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের আমিন খান জাকির, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মাছুম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কাজী তোফায়েল ইসলাম, কুমিল্লা সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা ইনকের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল হক, সহ সভাপতি মোকাদ্দেস হোসেন, মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ শরীফ।
অনুষ্ঠানে আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারি প্রজন্মসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতিতে এ সমাবেশে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয় মানবাধিকার নেতা ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের আত্মার প্রতি। ১৫ জানুয়ারি হচ্ছে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবস। ফেডারেল ছুটির দিন। আফ্রিকান-আমেরিকান লুথার কিং-এর নেতৃত্বে কঠোর সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে অভিভাসীরা এখন বহুবিধ অধিকার ভোগ করছেন বলে এই সমাবেশের বিশেষ অতিথি মুজিব-উর রহমান উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথি ডা: এনামুল হক বলেন, পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও সম্প্রীতি স্থাপনই এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। কমিউনিটির কল্যাণে কুমিল্লাবাসী সব সময় ঐক্যবদ্ধ। আমাদের এ সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যকে সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে আরো অধিকতর ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে রাখেন সংগঠনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সরকার ইসলাম। তিনি বলেন, ‘১৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই কুমিল্লা সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা ইনকের উদ্যোগে ইতিপূর্বে প্রবাসের মুক্তিযোদ্ধাদের স্বর্ণপদক প্রদান, নতুন প্রজন্মের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা এবং বাংলাদেশের কৃতি ব্যক্তিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। আর্ত-মানবতার সেবায় নিয়োজিত কুমিল্লাবাসীকেও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে অর্জিত অর্থে কুমিল্লায় ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু ও পরিচালনাকারি মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে কয়েক বছর আগে।
প্রফেসর মনির হোসন খান বলেন, বহু আশা, আকাংখা আর ভালবাসায় আমাদের প্রিয় সংগঠন কুমিল্লা সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা। অনেক বাধাঁকে উপক্ষো করে এ সংগঠনের পথচলা। তবুও দেশ ও প্রবাসে কুমিল্লাবাসীর কল্যাণে আমরা সকলে এক ও অভিন্ন। আজকের সুন্দর অনুষ্ঠান আমাদেরকে প্রবাসী কুমিল্লাবাসীকে উৎসাহিত করেছে। তাই আমরা গর্বিত। সংগঠনের মাঝে আমরা বছর পর বছর বেচেঁ থাকি। এ সংগঠণ আমাদের প্রাণ।
শিক্ষানুরাগি মোশাররফ খান চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজে আন্তরিকতা থাকলে অর্থ কোন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় না। যার প্রমাণ আমি। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং সবশেষে ইউনিভার্সিটি স্থাপন করেছি ট্যাক্সি চালনার অর্থে। এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে এগিয়ে নিতে সকল প্রবাসী আমাকে দোয়া করছেন-এটিই আমার অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহবায়ক কাজী আছাদ উল্যাহও প্রবাসী মা-দের প্রশংসা করেন এবং আহবান জানান, ‘সন্তানেরা হোমওয়ার্ক ঠিকমত করছে কিনা, স্কুলে সময় মত যাচ্ছে কিনা-তার প্রতি মনোযোগ বাড়ালে বহুজাতিক এই সমাজে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুতরা আরো ভালো রেজাল্ট দেখাতে সক্ষম হবে।’
সভাপতি গোলাম মো: মহিউদ্দিন সোসাইটির সম্মানে প্রতিহিংসার উর্ধে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, কুমিল্লা সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশ ও প্রবাসে কুমিল্লাবাসী কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি প্রবাসী কুমিল্লাবাসীকে দল ও মতের উর্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ার কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানান। পূনমিলর্নী অনুষ্ঠানে শুরু হওয়ার পরই এ প্রজন্মের শিশু কিশোরদের জন্য ছিল সুস্বাদু পিজা। এতে তৃপ্তি সহকারে তা গ্রহন করে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব ছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান। এতে পরিবেশন করেন তনিমা হাদী, রিপন, দেলোয়ার, জুয়েল, প্রমি। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের ফুলঝুড়ি থেকে ছিল সঙ্গীতানুষ্ঠান। শুরুতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রিপন। সবশেষে ছিলে বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী তনিমা হাদী। টানা এক ঘন্টাব্যাপি তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিনি। এতে উপস্থিত সকলে দারুনভাবে সঙ্গীত উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আব্দুল মান্নান দেলোয়ার, মোকাদ্দেস হোসেন, মাঈন উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, সালাহ উদ্দিন, আকবর হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফেরদৌস খান, শাহিনা আফরোজ, এমডি দেলোয়ার হোসেন, এমডি আবু আহমেদ, সৈয়দ শরীফ, মো: রেজাউল করীম, মো: আজাদসহ সদস্যদের অনেকে।
-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

You Might Also Like