কুমারী বাণিজ্য

প্রতারণা ও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে নারীরা। মাদক ব্যবসা ও পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের। এমনকি ছিনতাইয়ের টোপ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে তারা। চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে এক শ্রেণীর নারী। জাল টাকার ব্যবসায় জড়িত বেশ কয়েকজন সুন্দরী নারী। এমনকি নারীরা এখন পারিবারকভাবেও অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ছে।

এক সময় অপরাধীরা নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতো। তবে এখন অনেক নারী স্বতন্ত্রভাবে ব্ল্যাকমেইল, প্রতারণা ও মাদক ব্যবসায় নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘কুমারী বাণিজ্য’। সুন্দরী তরুণীরা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে। নিজেদের অবিবাহিত বা কুমারী দাবি করে একসময় তাদের বিয়ে হয়। বিয়েতে মোটা অংকের কাবিন করে। পরে ঠুনকো অজুহাতে স্বামীর পরিবারকে মামলার ভয় দেখিয়ে আদায় করে নেয় কাবিনের টাকা। অনেকে বিয়ে করে কিছুদিন পর টাকা, সোনা ও মূল্যবান সম্পত্তি নিয়ে সটকে পড়ে।

সম্প্রতি আইরিন আক্তার ও কান্তা মনি নামে দুই তরুণীর বিরুদ্ধে কুমারী সেজে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আইরিন আক্তারের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক শরফুদ্দিন আহম্মেদ। আইরিনের বাবা আব্দুল হাই এবং তার ভগ্নিপতি দেলোয়ারও এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০০৫ সালে দেলোয়ারের মাধ্যমে তার শ্যালিকা আইরিনের সঙ্গে বিয়ে হয় শরফুদ্দিনের। বিয়ের পর শরফুদ্দিনের সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে আইরিন। এক পর্যায়ে স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে বাধ্য হন তিনি। এর মধ্যে শরফুদ্দিন জানতে পারেন ২০০২ সালে আইরিনের সঙ্গে ইব্রাহিম খলিল নামে এক ব্যক্তির বিয়ে হয়। বিষয়টি জানার পর স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। পরে আইরিন স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা নিয়ে বাবার বাসায় চলে যান।

এ নিয়ে তেজগাঁও থানায় জিডি করেন শরফুদ্দিন। পরে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে আইরিন শরফুদ্দিনের বাসায় ফিরে এসে কয়েক দিন থাকার পর আবারো লাগেজ ভর্তি করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন শরফুদ্দিন।

অন্যদিকে কান্তা মনি (২৩) নামে আরেক তরুণীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন ইয়াছিন হোসেন কিরণ নামে এক যুবক। প্রেমের অভিনয় করে কিরণের সঙ্গে ৫ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়।
কিরণের সঙ্গে বিয়ের সময় কান্তা নিজেকে কুমারী দাবি করেন। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকে স্বরূপে ফিরেন কান্তা। মদ্যপ অবস্থায় বাসায় ফিরতে শুরু করেন। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার মনোমালিন্যে এক পর্যায়ে কান্তা তার কাবিনের ৫ লাখ টাক দাবি করেন। টাকা আদায় করতে না পারায় কান্তা কিরণ ও তার পরিবারের নামে মামলা করেন। পরে কিরণ জানতে পারেন এর আগেও কান্তার সঙ্গে নারায়নগঞ্জের সুজন ভূইয়ার বিয়ে হয়। ওই বিয়েতে কাবিন হয় এক লাখ টাকা। সেখানেও একইভাবে টাকা নিয়ে সটকে পড়েন তিনি।

সম্প্রতি বিয়ে গোপন রেখে কুমারী দাবি করে পুনরায় বিয়ে করে স্বামীর সঙ্গে প্রতারনা করার অভিযোগে স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মামলাটি দায়ের করেন নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা মৃত নেহাজ উদ্দিন মৃধার ছেলে জিয়াদুল হাসান।

অভিযোগে জানা যায়, লিপি আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে নিজেকে কুমারী দাবি করে জিয়াদুল হাসানকে বিয়ে করেন। জিয়াদুল বিয়ের পরেই জানতে পারেন তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল।

নারীদের এ ধরনের প্রতারনা সম্পর্কে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বাংলামেইলকে বলেন, ‘রাজধানীতে এরকম বেশ কিছু প্রতারক চক্র আছে। এসব প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন সতর্কতা। পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক কারনে নারীরা এ ধরনের প্রতারণার সাথে যুক্ত হয়ে পড়ছে।’

সুত্র: বাংলামেইল২৪ডটকম

 

You Might Also Like