কী হচ্ছে গাম্বিয়ায়?

গাম্বিয়ায় ক্ষমতা ছাড়া ও গ্রহণ নিয়ে বিদায়ী এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয় কি না, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জামেহর ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর শেষ দিন। একই দিন শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আদামা ব্যারোর। কিন্তু ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন জামেহ।

ক্ষমতা না ছাড়ার জন্য জামেহর বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো। আজকের মধ্যে ক্ষমতা থেকে সরে না দাঁড়ালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সামরিক অভিযান চালাবে সেনেগাল। গাম্বিয়ার তিন দিকে সেনগাল ও এক দিকে আটলান্টিক মহাসাগর।

আন্তর্জাতিক মহল ও আফ্রিকার দেশগুলো ইয়াহিয়া জামেহকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানালেও তাতে কান দিচ্ছেন না তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দেশে প্রবেশ করে শপথ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আদামা ব্যারো। ফলে আজ যেকোনো ধরনের সংঘাতের মুখে পড়তে পারে দেশটি।

সেনেগালের সেনারা সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে। চতুর্দিক ঘিরে ফেলেছে তারা। তবে গাম্বিয়ার সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, তিনি সেনেগালের সেনাদের বিরুদ্ধে লড়বেন না। রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি নাগ গলাবেন না।

সেনেগালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আবদৌ এনদিয়ায়ে বলেছেন, ‘বুধবার শেষ ভাগে গাম্বিয়া সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে আমাদের বাহিনী। আমরা প্রস্তুত এবং আমরা শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছি। যদি কোনো রাজনৈতিক সমাধান না হয়, তাহলে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

নাইজেরিয়ার যুদ্ধজাহাজ গাম্বিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সেটি ঘানার উপকূল পার করে গাম্বিয়ার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ঘানাও সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আদামা ব্যারোর বিশেষ উপদেষ্টা মাই আহমেদ ফেসবুক পোস্টে গাম্বিয়ানদের ঘরের মধ্যে থাকতে বলেছেন। তিনি হুংকার দিয়েছেন, যারা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তারা ভয়ংকর জবাবের মুখে পড়বে।

ইয়াহিয়া জামেহ আগামী তিন মাস গাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। এর এক দিন পর বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদ জামেহর ক্ষমতার মেয়াদ ৯০ দিন বাড়িয়েছে। তবে গত ৪৮ ঘণ্টায় চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করে জামেহর পক্ষ ত্যাগ করেছেন। নির্বাচনের পর এ পর্যন্ত আটজন মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। সেনাবাহিনী বলছে, বিদেশি সেনাদের সঙ্গে তারা লড়বে না। তাহলে জামেহর জারি করা জরুরি অবস্থা ও বিদেশি সেনাদের অভিযান প্রতিরোধ করবে কে?

এই গভীর সংকটে গাম্বিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার নাগরিক। প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন তারা। পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট এই দেশ থেকে এরই মধ্যে অধিকাংশ বিদেশি চলে গেছেন। এই সময়ে পর্যটকদের ভিড় থাকে। ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশ গাম্বিয়ায় শীতে ব্রিটিশ পর্যটকদের আনাগোনা থাকে বেশি।

রাজধানী বানজুলের রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য নেই, দোকানপাট বন্ধ। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন জানিয়েছে, সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার গাম্বিয়ান দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

১ ডিসেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আদামা ব্যারো বিজয়ী হলে পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে তাকে স্বাগত জানান ইয়াহিয়া জামেহ। কিন্তু কয়েক দিন পরেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি। পুনর্নির্বাচন দাবি করে ক্ষমতা না ছাড়ার ঘোষণা দেন। তবে এই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়।

প্রতিবেশী গাম্বিয়ার সংকট সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন পশ্চিম আফ্রিকার নেতারা। মৌরিতানিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহামেদ ওউল্ড আবদেল আজিজ শেষ মুহূর্তে ইয়াহিয়া জামেহর সঙ্গে কথা বলে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি স্যালের সঙ্গে সাক্ষৎ করতে গেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর দেশটিতে এ পর্যন্ত মাত্র দুজন শাসক এসেছেন। তার মধ্যে একজন ইয়াহিয়া জামেহ। ১৯৯৪ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন তিনি।

You Might Also Like