কানেকটিকাটে বাংলাদেশিকে হত্যায় কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের ৫৫ বছরের কারাদন্ড

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত বাংলাদেশি দোকান কর্মচারি লুৎফুর তরফদার ওরফে বেলালকে খুনের অপরাধে কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে ৫৫ বছর কারাদন্ড প্রদান করেছেন। গত মঙ্গলবার সকালে কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড সুপরিয়র কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক এডওয়ার্ড জে. মুলারকী এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে ইষ্ট হার্ডফোর্ডের বার্নসাইডে ১০৮৪ নম্বর এভেন্যুর সার্কেল এইচ ফুড মার্ট নামের বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি দোকানে কাজ করতেন যুবক বেলাল। ২০১২ সালের ২৫ আগষ্ট কেজলীন মেন্ডেজ নামের ওই কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্ত কালো মুখোশ পরে উক্ত দোকানে ঢুকে ক্যাশ রেজিস্টার থেকে অর্থ লুটের চেষ্টা চালান। এক পর্যায়ে সেখানে কর্মরত বেলালকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বেলালের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার দু’দিন পর ইষ্ট হার্টফোর্ড পুলিশ সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় ধারনকৃত ছবি দেখে তাকে গ্রেপ্তার করে।  পরদিন ধৃত কেজলিন মেন্ডেজকে ম্যানচেস্টার সুপরিয়র কোর্টে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তার বিরুদ্ধে ৩ মিলিয়ন ডলারের জামিননামা ধার্য করে জেল হাজতে পাঠান।

চলতি বছরের  ৩ জুন কেজলিন মেন্ডেজ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, “আমি আমার কৃতকর্মের জন্য খুবই দুঃখিত। তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমি ওই দোকানে যাইনি। শুধুমাত্র আমার মেয়ে ও গার্লফ্রেন্ডের জন্য অর্থ লুট করতে দোকানে গিয়েছিলাম কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে গুলি করে ফেলি, এটা একটি দুর্ঘনা মাত্র। ঘটনার ১ বছর ১১ মাস ১১ দিন অর্থাৎ ৭১৮ দিন পর গত ১২ আগষ্ট মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর বেলাল হত্যা মামলার রায় প্রদান করা হয়। উক্ত রায়ে কেজলীন মেন্ডেজকে খুনি সাব্যস্ত করে ৫৫ বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।রায়ে কেজলিন মেন্ডেজকে খুনি সাব্যস্ত করে ৫৫ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। এ রায় শুনে লুৎফুর তরফদার ওরফে বেলালের স্ত্রী শামীমা তরফদার আদালতে অশ্রুসজল চোখে খুনিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার সুন্দর ও নিখুঁত একটি সংসার ছিল, এখন আর তা নেই। এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শামীমা।

উল্লেখ্য, নিহত লুৎফুর তরফদার ওরফে বেলাল তার স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টার শহরে বসবাস করতেন। বর্তমানে স্ত্রী ও তিন কন্যা একই শহরে বাস করছেন। তাদের দেশের বাড়ি মৌলিভীবাজার জেলায়। তিনি দীর্ঘদিন নিউ ইয়র্ক বাস করতেন। ঘটনার কয়েক বছর আগে কানেকটিকাটে এসে নতুনভাবে চাকুরি শুরু করেন। নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

You Might Also Like