কানাডায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদের বিক্ষোভ

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে গণহত্যার দায় অস্বীকার করার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার টরন্টোর প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্থানীয় পাকিস্তান হাইকমিশন কনস্যুলার অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। স্থানীয় সময় সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁরা বিক্ষোভ করেন।

ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলবের এক সপ্তাহ পর গত সোমবার ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে পাকিস্তান’৭১-এ গণহত্যার দায় অস্বীকার করেছে। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিচার এবং সাজা প্রশ্নে পাকিস্তানের বিরোধিতার বিষয়ে ঢাকার অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ।

বাংলাদেশি টরন্টোরিয়ানের ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারজানা আজিম শিউলি, সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর, উদীচী কানাডার সুমন সাঈদ, দুলাল পাল, বিদ্যুৎ সরকারসহ স্থানীয় প্রগতিশীল বাঙালি লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাঁরা বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুনে সজ্জিত হয়ে পাকিস্তান সরকারের বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও গণহত্যার দায় অস্বীকার করার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভ শেষে কনস্যুলার জেনারেলের কাছে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের রায় কার্যকরের পর এ পর্যন্ত অন্তত চারবার ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব এবং প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় পরদিন ২২ নভেম্বর পাকিস্তান সরকার গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বিবৃতিতে এই উদ্বেগ-নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন নেতা বিবৃতি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ নভেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। ৩০ নভেম্বর ইসলামাবাদ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পাল্টা তলব করে।

You Might Also Like