কাতারের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ১৩ শর্ত

উপসাগরীয় কূটনৈতিক সংকট এবার নাটকীয় মোড় নিয়েছে। কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য কাতারকে ১৩টি শর্ত দিয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও বাহরাইন।

এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে- ইরানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ, সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা বন্ধ করা, মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ, বিরোধীদেশগুলোর নাগরিকদের কাতারি নাগরিকত্ব দেওয়া বন্ধ করা এবং সৃষ্ট সংকটের ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ প্রদান।

চলতি মাসে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও মিশর কাতারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে। তারা অভিযোগ করে, কাতার সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করছে। কাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শর্তগুলোতে ইরানের বিষয়ে বলা হয়েছে, কাতারকে ইরানে নিজেদের রাষ্ট্রদূতের পদ বন্ধ করতে হবে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর সদস্যকে বহিষ্কার করতে হবে এবং ইরানের সঙ্গে শুধুমাত্র ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক থাকবে, তাও দেশটির ওপর মার্কিন অবরোধ নীতি অনুযায়ী। এ ছাড়া দেশটিতে অবস্থিত তুর্কি সেনাঘাঁটিও বন্ধ ঘোষণা করতে হবে।

আল জাজিরার বিষয়ে বলা হয়, কাতারকে আল জাজিরা ও এর সংশ্লিষ্ট সকল শাখা বন্ধ ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি কাতারকে ‘রাসাদ’, ‘আরাবি ২১’, ‘মিডল ইস্ট আই’ ও ‘আল আরাবি আল জাদিদ’-সহ যেসব সংবাদ মাধ্যম কাতারি অর্থায়নে পরিচালিত সেগুলোও বন্ধ করে দিতে হবে।

আরেকটি দাবিতে ওই ৪টি দেশ কাতারকে নিজেদের নাগরিকদের কাতারি নাগরিকত্ব না দিতে বলেছে। পাশাপাশি ওই দেশগুলোর যেসব নাগরিকের কাতারি নাগরিকত্ব ওই দেশগুলোর আইন ভঙ্গ করছে, তাদের কাতারি নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, দাবি পূরণের জন্য ১০দিন সময় দিয়েছে দেশগুলো। কাতার দাবিগুলো মেনে নিতে সম্মত হলে আগামী ১০ বছর কাতারকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং বাৎসরিকভাবে তার বিবরণ নেওয়া হবে। দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরুর পর প্রথম বছরে প্রতি মাসে এবং দ্বিতীয় বছরে প্রতি তিন মাস পর পর কাতার তা মেনে চলছে কি না সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

তবে তাদের দাবিগুলো মানা না হলে তারা কী পদক্ষেপ নেবে তা জানায়নি সৌদি নেতৃত্বাধীন দেশগুলো।

You Might Also Like