হোম » কলঙ্কময় ‘পিলখানা হত্যা’ দিবস

কলঙ্কময় ‘পিলখানা হত্যা’ দিবস

রাজনৈতিক ভাষ্যকার- Monday, February 24th, 2014

২৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন। ২০০৯ সালে এই দিনে পিলখানায় তৎকালিন বিডিআর সদর দফতরে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক নৃশংস ঘটনা।

ওই দিন সকাল ৯ টা ২৭ মিনিট। দরবার হলে চলমান বার্ষিক দরবারে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে পড়ে। এদের একজন বিডিআর মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে। পুরো পিলখানায় এক ভীতিকর বীভৎস ঘটনার সৃষ্টি করে।

চারটি প্রবেশ গেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশেপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকে। বিদ্রোহীরা দরবার হল ও এর আশেপাশে এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের পাখির মত গুলি করতে থাকে। তাদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকে মেধাবী সেনা কর্মকর্তারা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। পিলখানা পরিণত হয় এক রক্তাক্ত প্রান্তরে।

২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা থেকে আবিষ্কৃত হয় গণকবর। গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় সেনা কর্মকর্তাদের লাশ। তাদের অবুঝ শিশু, সন্তান অথবা তাদের স্ত্রীরা হারিয়ে ফেলেন স্বাভাবিক জীবনের চলফেরার মুহূর্ত। লাশ আর পিলখানার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে সারাদেশের মানুষ হতবাক হয়ে যায়।

৩৬ ঘণ্টার এ হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, ১ জন সৈনিক, দুই জন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও পাঁচ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়। পিলখানায় এ বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগাঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়।

বিডিআরের নাম, পোষাক, লগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি ব্যাপারে পুনর্গঠন করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরির্তন করা হয় বিডিআর বিদ্রোহের আইন। বর্ডার গার্ড আইনে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয় মৃত্যুদ-। বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়।

সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটিকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সকাল ৯ টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একজন প্রতিনিধি এ পুস্তস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক সেনা কর্মকর্তাদের কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বিকাল সাড়ে ৪ টায় পিলখানা সদর দফতরে বীর উত্তম ফজলুর রহমান মিলনায়তনে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।