কর্ণফুলীর এমডিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির প্রাক্তন দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) পাঁচ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় (মামলা নং-২৭) দুদকের উপপরিচালক ঋতিক সাহা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন।
তবে জনবল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন পেট্রোবাংলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর।

গত ২ জুন কমিশন ওই মামলার অনুমোদন দেয়। তবে হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডে জনবল নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলার সুপারিশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে অব্যাহতি দেয় কমিশন।

দায়ের করা মামলার আসামীরা হলেন- কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানির প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সানোয়ার হোসেন, প্রাক্তন সচিব ও বর্তমান উপ মহাব্যবস্থাপক আমির হামজা, উপমহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল মামুন, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) চৌধুরী আহসান হাবীব এবং প্রাক্তন এমডি ও বর্তমানে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের এমডি জামিল আহমেদ আলীম।

গত ২১ মে হোসেন মনসুরসহ উপরোক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। দুদকের উপপরিচালক ঋতিক সাহা ও সহকারী পরিচালক আল আমিন যৌথভাবে জনবল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামীরা কোনো প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই না করেই ব্যক্তিগতভাবে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে কর্ণফুলী গ্যাসফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের বিভিন্ন পদে ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি এডহক ভিত্তিতে নিয়োগদান করেন। অত:পর এর মধ্যে থেকে ৪২ জনকে পরে নিয়মিত করা হয়। যেক্ষেত্রে কর্মচারি নিয়মিতকরণ বিধিমালা ১৯৯৪-এর বিধান অমান্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, ওই নিয়োগে বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড কোম্পানির নিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা কোটা, মুক্তিযোদ্ধা কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা এবং নারী কোটাও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলেও কম্পিউটার অপারেটর পদের মূল্যায়নে অভিজ্ঞতার জন্য কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে নীতিমালা অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষার জন্য ৫০ নম্বর, মৌখিক পরীক্ষায় ১৫ আর শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ৩৫ নম্বর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে নীতিমালা পরিবর্তন করে লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৪০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ১৫ ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৩৫ নম্বর নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। মেধাবী প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বর পেয়েও চাকরি পাননি। সেক্ষেত্রে পছন্দের প্রার্থীরা ১৫-২০ নম্বর পেয়েও চাকরি পেয়েছেন।

আর ড. হোসেন মনসুরের নির্দেশে এবং অন্যদের সংশ্লিষ্টতায় অবৈধপন্থায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এমনকি অনুসন্ধান প্রতিবেদনে হোসেন মনসুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য সুপারিশও করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

এর আগে হোসেন মনসুর এবং পেট্রোবাংলার ১৩টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কমিশনের উপপরিচালক আহসান আলীকে। এরপর আহসান আলীকে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেওয়ার পর ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল সহকারী পরিচালক শেখ আবদুস সালামকে দায়িত্ব দেয় কমিশন। পরে অভিযোগ নতুনভাবে অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক ঋতিক সাহা ও সহকারী পরিচালক আল-আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাঁচ বছর ধরে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে গত বছরের অক্টোবরে এ পদ থেকে অবসরে যান ড. হোসেন মনসুর।

আসামীরা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দন্ডবিধি ১০৯ ধারায় অপরাধ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। তাই দুদক তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে।

You Might Also Like