Uncategorized

করোনাভাইরাসে হুমকির মুখে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা

করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনের মধ্যে পড়েছে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি দেশ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা।

বিশ্বের ২০০ দেশ ও অঞ্চলের প্রায় চার লাখ ৭০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ভাইরাসে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২১ হাজার। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় অনেক দেশেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বিপুল পরিমাণ টয়লেট পেপার ও স্যানিটাইজারের মতো পণ্য কিনে মজুত করছে। এ কারণে সুপারমার্কেটের তাকগুলো খালি হয়ে যাওয়া এখন সাধারণ ঘটনা। এই উদ্বেগের মধ্যে নিজেদের নাগরিকদের জন্য নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতে অনেক দেশ খাদ্যদ্রব্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ফিন জাইবেল বলেন, ‘মানুষ ভয় পাচ্ছে। বড় রপ্তানিকারকরা যদি খাদ্যপণ্য দেশেই রেখে দেয় তাহলে ক্রেতাদের জন্য এটা সত্যিকারার্থে উদ্বেগের। মৌলিকভাবে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বেশ ভালো হলেও এটা উদ্বেগের, যুক্তিসঙ্গত নয়।’

চাল রপ্তানিতে বিশ্বে তৃতীয় ভিয়েতনাম, আর গম রপ্তানিতে নবম হচ্ছে কাজাখস্তান। অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই দুই দেশই রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চাল রপ্তানিকারক ভারতে ২১ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটি কয়েকটি রপ্তানি আদেশ স্থগিত করেছে।

রাশিয়ার ভেজিটেবল অয়েল ইউনিয়ন সূর্যমুখী ফুলের বিচি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। আর মালয়েশিয়া পামঅয়েল রপ্তানির গতিতে হ্রাস টেনেছে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ইতোমধ্যে চালের দাম বেড়ে গেছে অনেক দেশে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক জ্যেষ্ঠ ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, ‘এটা সরবরাহ ইস্যু। ভিয়েতনাম রপ্তানি বন্ধ করেছে। ভারত লকডাউনে আছে এবং থাইল্যান্ডও একই পদক্ষেপ নিতে পারে।’

২০০৮ সালে খাদ্য সংকটের সময় চালের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ও আতঙ্কিত কেনাকাটার কারণে ওই সময় টনপ্রতি চালের দাম হয়েছিল এক হাজার মার্কিন ডলার।

সিঙ্গাপুরের ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ২০০৮ সালের পুনরাবৃত্তি দেখতে পারি। তবে একটি বিষয় হচ্ছে, বিশ্বে পর্যাপ্ত যোগান আছে। বিশেষ করে ভারতে রয়েছে বিশাল মজুত।’