কমনওয়েলথ গেমস শুরু

একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল যে দেশগুলো তাদের নিয়েই এ কমনওয়েলথ গেমস। ১৯৩০ সালে যাত্রা শুরু। হ্যামিলটনে সেই আসরে ১১টি দেশের ৪০০ অ্যাথলেট ছয়টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েছিল। ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত এটির নাম ছিল ব্রিটিশ এম্পায়ার গেমস। এরপর নাম বদলে হয় ব্রিটিশ এম্পায়ার অ্যান্ড কমনওয়েলথ গেমস। ১৯৫৪ থেকে ’৬৬ পর্যন্ত এ নামেই বসেছে এই ক্রীড়া আসর। কিন্তু এটাও স্থায়ী হল না। ১৯৭০ থেকে ’৭৪ দুই বছর হল ব্রিটিশ কমনওয়েলথ গেমস।

অবাক হবেন না, এখানেও স্থির থাকলেন কোথায় আয়োজকরা। অলিম্পিকের আদলের এ আসর সর্বশেষ নাম পেল কমনওয়েলথ গেমস! নাম বদলের এ খেলার মতো গেমসের মানটাও ওঠানামা করেছে! আর এখন মানের দিক থেকে অলিম্পিক অনেক পিছিয়ে। এমনকি এশিয়ান গেমসের মতোও এটা নিয়ে তেমন উন্মাদনা কোথায়? যদিও এটিও চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্বকাপ ফুটবল উত্সবের পর এবার অনেকটা নীরবেই আজ থেকে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হচ্ছে কমনওয়েলথ গেমস। আয়োজকরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়েই মাত করতে চাইছেন। জানা গেল, রকস্টার রড স্টুয়ার্টকে দেখা যাবে জমকালো সেই আয়োজনে। থাকবে মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে। সেলটিক পার্কে অংশগ্রহণকারী দেশের অ্যাথলেটরাও মার্চপাস্টে অংশ নেবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকেট বিক্রিও প্রায় শেষ। সমাপনী ৩ আগস্ট। ১১ দিন স্থায়ী এ আসরে ১৭টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে ৭১টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৪৫০০ অ্যাথলেট।
অংশ নেবেন না করেও শেষ পর্যন্ত কমনওয়েলথ গেমসে থাকছেন উসাইন বোল্ট। যদিও এ গ্রহের দ্রুততম মানব অংশ নিচ্ছেন শুধুই ৪–১০০ মিটার স্প্রিন্টে। আবার মেয়েদের দ্রুততম মানবী শেলি অ্যান ফ্রেজারও শুধু এ ইভেন্টেই লড়বেন। ভক্ত, আয়োজক আর স্পন্সরদের অনুরোধে গ্লাসগোতে থাকছেন তারা।

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো স্কটল্যান্ডে বসছে কমনওয়েলথ গেমস। এর আগে ১৯৭০ আর ১৯৮৬ সালে আয়োজক ছিল তারা। বিশ্বজুড়ে যাই থাকুক, আয়োজক শহর গ্লাসগো এখন উত্সবমুখর। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর অ্যাথলেটদের পদচারণায় পুরো শহরই বর্ণিল হয়ে উঠেছে। যেমনটা বলছিলেন গেমসের প্রধান নির্বাহী ডেভিড গ্রেমবার্গ, ‘এটা আসলে প্রাণের উত্সব। বিশ্বসেরা অ্যাথলেটদের মিলনমেলা। সেই আয়োজনে শামিল হতে সবাই প্রস্তুত।’ শুধু অ্যাথলেটরাই নন, এ ক্রীড়া উত্সবে শামিল হচ্ছেন পর্যটকরাও।

You Might Also Like