কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার রাতে কচুয়া থানায় উপজেলার চরসোনাকুড় গ্রামের মৃত খালেক শেখের মেয়ে গৃহকর্মী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মঙ্গলবার ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কচুয়া থানার অফিসার কর্মকর্তা শেখ শমসের আলী।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৫ সালে বাদীর বাবা তাকে ও ভাই এবং মাকে রেখে অন্যত্র চলে যান। ওই বছরের ৬ জুন থেকে বাদীর পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগে তৎকালীন রাড়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মাহফুজুর রহমান কর্মসংস্থানের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে স্থানীয় সাইনবোর্ড বাজারের বিসমিল্লাহ মার্কেটের তৎকালীন তার বাসস্থানে রাখেন। তখন বাদীর বয়স ছিল ১২ বছর। ওই বছরের ২১ জুন রাত ১০-১১টায় ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় তাকে প্রথমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় বাদী পালিয়ে ঢাকাস্থ তার ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। মামলার আসামি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এসএম মাহফুজুর রহমানের কবল থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হন বলে উল্লেখ করেন। এরপর তার অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে পালিয়ে গেলেও তার বাহিনী দিয়ে বাদীকে ধরে নিয়ে এসে আবার ধর্ষণ করে। এতদিন পর্যন্ত তিনি প্রভাবশালী ওই চেয়ারম্যানের কারণে মুখ খুলতে সাহস পাননি বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন। বাদী কোথাও আইনের আশ্রয় না পেয়ে অবশেষে খুলনা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আশ্রয় নেন।
বাগেরহাটের কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শমসের আলী বলেন, বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার আসামির বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তাকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলার চেয়ারম্যান এসএম মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে জানতে বারবার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

You Might Also Like