ওপার বাংলায় বোরখা পরলেই জঙ্গি বলে অপমান

বোরখা পরে বাসে ওঠায় জঙ্গি বলে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সরকারি বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে৷ শুধু তাই নয়, ব্যাগ তল্লাশির অছিলায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ও সোনার গয়না লুঠের অভিযোগও রয়েছে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে৷

রোববার দুপুরে আসানসোল থেকে কলকাতাগামী দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ নিগমের বাসে এই ঘটনা ঘটে৷ এর প্রতিবাদে রোববার রাতেই আসানসোল দক্ষিণ থানায় একটি অভিযোগ জানানো হয় ওই পরিবারের তরফে৷ সোমবার ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোল বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক ভাঙচুরও হয়৷ পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে শান্ত হয় জনতা৷

স্থানীয় সূত্রে খবর, অপমানিত দম্পতি আসানসোল জেলা কংগ্রেসের নেতা মুহম্মদ পারভেজের ভাইঝি পারভিন ও জামাই জাফর আলম৷ তারা রোববার দুপুর এগারোটা নাগাদ পারভেজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কলকাতায় যাবেন বলে দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণের বাসে চাপেন৷ বাসের নম্বর ডব্লিউ বি – ৩৯/এ ৩৭১২৷

পারভেজের অভিযোগ, টিকিট দেখানোর সময় কন্ডাক্টর তার ভাইঝি পারভিনকে বোরখা পরা দেখে বলে, ‘এরা সন্ত্রাসবাদী৷ এদের ব্যাগগুলো ভালো করে দেখতে হবে৷’ এর পর তাদের উদ্দেশ্যে বেশকিছু অশালীন মন্তব্যও করা হয়৷ এ সব শুনে কেঁদে ফেলেন পারভিন৷ জাফর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘আইনত আপনি আমাদের জিনিসপত্র তল্লাশি করতে পারেন না৷ আপনার যদি সন্দেহ হয়, তাহলে আমাদের পুলিশের হাতে তুলে দিন৷ পুলিশ প্রয়োজনে আমাদের ব্যগ-স্যুটকেস খুলে তল্লাশি করতে পারে৷’ তখনকার মতো কন্ডাক্টর চলে যায়৷ বাসও ছেড়ে দেয়৷

এর পর দুর্গাপুরে বাস থামলে ফের চালক ও কন্ডাক্টর এসে অপমানজনক উক্তি করে৷ ব্যাগ তল্লাশির হুমকি দেয়৷ তাতে ফের প্রতিবাদ করেন ওই দম্পতি৷ শেষ পর্যন্ত কলকাতায় পৌঁছে ওরা বাস থেকে নামার আগে চালক ও কন্ডাক্টর এসে অশ্লীল গালিগালাজ করে ওদের ব্যাগ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় বলে অভিযোগ৷

পারভেজ জানান, ‘পারভিনরা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে৷ রাতে বিষয়টা আমাকে জানালে আমি আসানসোল দক্ষিণ থানায় গিয়ে অভিযোগ করি৷ সোমবার এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হন৷ আমার দলের ছেলেরাও আসে৷ আমরা রোববারের ওই চালক ও কন্ডাক্টরের নাম জানানোর দাবি করি৷’

পুলিশ সূত্রের খবর, ওই সময়ে দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণের যে বাসটি ছাড়ার কথা ছিল, সেটিকে আটকে রেখে শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ৷ খবর পেয়ে আসানসোল দক্ষিণ থানা থেকে পুলিশ আসে৷ ওসি পরিবহণ নিগমের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অবিলম্বে ওই দুই অভিযুক্তকে আসানসোল দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেয়ার নির্দেশ দেন৷ এই আশ্বাস পেয়ে শান্ত হয় জনতা৷ অবরোধও তুলে নেয়া হয়৷

আসানসোলের এডিসিপি (সেন্ট্রাল) বলেন, ‘আসানসোল দক্ষিণ থানা বিষয়টির তদন্ত করছে৷’ আসানসোলের বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যতদূর জানি, একটা ঘটনা ঘটেছিল৷ পুলিশ বিষয়টা দেখছে৷ যদি ঘটনাটি সত্যি হয়, তাহলে খুবই অন্যায় হয়েছে৷ বিষয়টা অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষ৷’ কৃষিমন্ত্রী তথা জেলার তৃণমূল নেতা মলয় ঘটক অবশ্য ‘এ রকম কিছু শুনিনি৷ খোঁজ নেব’ বলে দায় সেরেছেন৷ দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নবকুমার বর্মা ও ট্র্যাফিক ম্যানেজার সজল রায় বারবার ফোন কেটে দেন৷

You Might Also Like