ওআইসিতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান বাদশাহ সালমানের

শুক্রবার বিকেলে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) ১৪তম সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনের প্রথম দিনেই ভাষণ দিয়েছেন সৌদির দুই পবিত্র মসজিদের প্রধান এবং সৌদির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।

ভাষণে মুসলিম দেশগুলোকে সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে একত্রে যুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাদশাহ সালমান। সম্মেলনে আরব আমিরাতের জলসীমায় সৌদির চারটি জাহাজে নাশকতার ঘটনা এবং সৌদির তেল স্টেশনে ড্রোন হামলার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়।

বাদশাহ সালমান জোর দিয়ে বলেন, সৌদির তেল স্টেশনে হামলার ঘটনা শুধু সৌদি আরব বা আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে নয় বরং তা পুরো বিশ্বের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরাই তেল স্টেশনে হামলার পেছনে দায়ী।

বাদশাহ সালমান আরও বলেন, ড্রোন হামলা সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে হুমকি তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, দুটি তেলের ট্যাংকারসহ সৌদির চার জাহাজে নাশকতার ঘটনা এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এমনকি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ভয়ানক হুমকিস্বরূপ।

বাদশাহ সালমান বলেন, ওআইসির ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা স্মরণ করতে চাই যে, আল আকসা মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সংস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল। আল আকসা এখনও বেদখল হয়ে আছে। নিয়মিত সেখানে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনের হাত ধরেই ওআইসির ভিত্তিপ্রস্তর তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ই আমাদের মূল লক্ষ্য।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করার প্রচেষ্টা ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহ এবং পুরো বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় যে হুমকি তা হচ্ছে চরমপন্থা এবং সন্ত্রাস। আমাদের একত্র হয়ে সন্ত্রাস এবং এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে।

ওই সম্মেলনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ আল ওথাইমেন।

এদিকে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম নেতাদের সঙ্গে ওআইসির ১৪তম সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার দিনের সরকারি সফরে শুক্রবার বিকেলে সৌদি আরব পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।

You Might Also Like