এ্যানির বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রায় দেড় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশন বৈঠকে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এ ছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ২২ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তার বিরুদ্ধে কমিশন চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়।

এর আগে ২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় (মামলা নম্বর-১৪) অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

যেখানে তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে দুদকের তদন্তে যা ১৮ লাখ টাকা সম্পদ কমে যায়।

তথ্য গোপনের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, তিনি জমি ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকা এবং লক্ষ্মীপুরের কুশখালীতে তার নামে স্কুলে অনুদান বাবদ ১০ লাখ টাকা অর্থাৎ মোট ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। যা দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অন্যদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানা যায়, এ্যানির দেওয়া রেকর্ড অনুসারে স্থাবর-অস্থাবর ও অপ্রদর্শিত সম্পদ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। যার মধ্যে দায় রয়েছে ৬৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ দায় বাদ দিলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ হয় ৩ কোটি ৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৭ টাকা।

যেখানে ২০১৩ সালের ৩০ জুনে দেওয়া সম্পদ বিবরণী অনুসারে তার ১ কোটি ৮৪ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে কীভাবে তার এত সম্পদ হলো, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এ্যানি।

তাই মোট ১ কোটি ২২ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার সম্পদ তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। যা দুদক আইন ২০১৪-এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি এ্যানির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এরপর ১২ মার্চ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়ায় ওই বছরের ২৫ মার্চ সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করে দুদক।

You Might Also Like