এরদোগানের প্রভাব নিয়ে সৌদি-জর্ডান-ফিলিস্তিন উদ্বিগ্ন!

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান পূর্ব জেরুজালেমে তার দেশের প্রভাব বাড়াচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলের পাশাপাশি আতঙ্কিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, সৌদি আরব ও জর্ডান। এমনকি এরদোয়ান পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পূর্ব জেরুজালেমে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে উল্লিখিত তিন দেশ। ইসরাইলি গণমাধ্যম হারেটজ রোববার এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে তুরস্কের কার্যক্রম নিয়ে জর্ডান, সৌদি আরব ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে। তারা আশঙ্কা করছে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট ‘জেরুজালেমের মালিকানা (আল-আকসার তত্ত্বাবধান) দাবি করতে পারে’।
হারেটজ দাবি করেছে, জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সিনিয়র কর্মকর্তারা ইসরাইলকে বলেছেন, তুরস্ক জেরুজালেমের আশপাশে তাদের প্রভাব বিস্তার করছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা হারেটজকে বলেছেন, জেরুজালেম পরিস্থিতি নিয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন এবং বিষয়টিতে সম্প্রতি অধিকতর মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী এক বছরের বেশি সময় ধরে পূর্ব জেরুজালেমে তুরস্কের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা পর্যবেক্ষণ করছে। শহরটিতে আঙ্কারা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করছে তার কিছু কৌশলের কথাও ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তাদের মতে, তুরস্ক তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোতে ইসলামিক সংগঠনগুলোকে অনুদান দিচ্ছে। তুরস্কের ইসলামপন্থী গ্রুপগুলো ওইসব সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ এমনকি একে অপরের মধ্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করছে। হারেটজ বলছে, তুরস্কের ওইসব ইসলামী গ্রুপের সঙ্গে এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এবং এই দলটিই গত এক বছরে কয়েক হাজার তুর্কি নাগরিককে পূর্ব জেরুজালেমে আনার ব্যবস্থা করেছে। সেইসঙ্গে হারাম-আল-শরিফকে ঘিরে যে বিক্ষোভ কর্মসূচি হচ্ছে তাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তুর্কি নাগরিকের উপস্থিতি থাকছে।
আর তুরস্কের এসব কার্যক্রম সত্ত্বেও ইসরাইল ‘গাড়ি না চালিয়ে –কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে- ঘুমাচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছেন জর্ডানের কর্মকর্তারা। আম্মান আরো অভিযোগ করেছে যে, ২০১৬ সালে করা ঐকমত্যের চুক্তি (তুরস্ক-ইসরাইলের মধ্যে) অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমে তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেও ধীর স্থির প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে ইসরাইল। ওই চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমে তুর্কি কর্মকাণ্ডকে শক্তি প্রয়োগে বাধাগ্রস্ত করবে না তেলআবিব।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা হারেটজকে বলেন, জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে তুরস্কের প্রভাব বিস্তারের ব্যাপারে তেলআবিব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেন ওই কর্মকর্তারা।
ইসরাইলি ওই কর্মকর্তারা আরো বলছেন, তুরস্কের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি বেশি পরিলক্ষিত হয় গত বছর, যখন পূর্ব জেরুজালেমের ভেতরে ও বাইরে শত শত তুর্কি নাগরিক নিয়মিত অবস্থান করে এবং আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ পড়া নিয়ে পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেন, ওই সময় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তুর্কি নাগরিকদের আটক, দেশে ফেরত পাঠানো এবং পুনরায় ইসরাইলে প্রবেশ করতে না দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে।
তারা স্বীকার করেন যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যদিও তুর্কি কর্মকাণ্ড হ্রাস পেয়েছে তবুও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত আছে। তুরস্ক এখন পূর্ব জেরুজালেমের সংগঠন ও সংস্থায়, একেপি পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন সংগঠন-সংস্থাসহ, বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তারা।
ইসরাইলি পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, ‘তারা (তুরস্ক) ভূসম্পত্তি ক্রয় এবং রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। আর এটিই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে, কারণ তারা চায় না পূর্ব জেরুজালেমের দায়িত্ব অন্য কোনো দেশের হাতে যাক।’
হারেটজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব জেরুজালেম তথা আল-আকসার তত্ত্বাবধায়ক এখন জর্ডান। সে কারণেই তুরস্কের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন আম্মান। দেশটির কর্মকর্তারা ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বলেছেন, তারা আশঙ্কা করছেন, এরদোয়ান তাদের সেই মর্যাদা (তত্ত্বাবধায়ক) কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কারণ হলো- তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হামাসকে সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করছে তুরস্ক। হামাস বর্তমানে গাজা নিয়ন্ত্রণ করছে।
আর সৌদি আরবের উদ্বেগের কারণ হলো- তারা মনে করছে, এরদোয়ান জেরুজালেম ইস্যু নিয়ে টানাটানি করছেন এ জন্য যে, যাতে তিনি আরব তথা মুসলিম বিশ্বে নিজের প্রভাব বাড়াতে পারেন এবং ইসরাইল ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিজেকে একমাত্র নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

You Might Also Like