Uncategorized

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য অতিরিক্ত লাগবে ১৭০০ কোটি টাকা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পে কমিশনের সুপারিশ করা বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা খাতে সরকারের অতিরিক্ত লাগবে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে এ খাতে বছরে ব্যয় হয় ৫,৬৭৭ কোটি টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এ খাতে ব্যয় বাড়বে ২৯ শতাংশ।

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি মান্থলি পে-অর্ডার বা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও শতভাগ বেতন-ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত পে কমিশন।

২১ ডিসেম্বর কমিশন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পে কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতন কার্যকরের প্রস্তাব করলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আরও ছয় মাস পরে কার্যকর করতে বলেছে।

পে কমিশনের যুক্তি হচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তি নিয়ে নানা অসঙ্গতি ও জটিলতা রয়েছে। সে জন্য ‘এমপিও স্কিমের’ একটি ত্বরিত বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সময়ে কাজটি সেরে ফেলতে হবে সরকারকে। তারপরই শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো উচিত বলে উল্লেখ করা হয় পে কমিশনের প্রতিবেদনে।

বর্তমানে সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক আছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ। পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করলে তাদের সবাই বর্ধিত হারে বেতন-ভাতা পাবেন।

পে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন স্বীকার করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে।

তিনি জানান, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত অর্থে শিক্ষক দরকার, সেখানে হয়তো নেই। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার বেশি বিল তোলার অভিযোগও আছে।

নিয়ম অনুযায়ী, পাস না করার নজিরও রয়েছে। তিনি মনে করেন, জরুরি ভিত্তিতে এমপিও ‘যৌক্তিকীকরণ’ করতে হবে। সেজন্য দরকার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী জানান, সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। প্রশ্ন রয়েছে

শিক্ষার মান নিয়ে।

তাছাড়া রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এসব অনিয়ম দূর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিও নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা হওয়া দরকার বলে

মনে করেন তিনি।

বাজেট এলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির চাপ আসে সরকারের ওপর। গত দুই অর্থবছরে এ চাপ ছিল প্রবল। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন করে এমপিও দেওয়ার ঘোর বিরোধী।

চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে বিষয়টি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় একাধিকবার তোপের মুখে পড়েন মুহিত। কিন্তু অনড় অর্থমন্ত্রী তার বাজেটে এ বিষয়ে কিছুই বলেননি।

তিনি মনে করেন, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত। সেজন্য নতুন এমপিওর দরকার নেই। তাছাড়া এমপিওর নামে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।