এবার পুলিশকে কামড়ে দিয়েছে তরুণী

অবাক হলেও সত্যি, এবার পুলিশকে কামড়ে দিয়েছে এক তরুণী। কেবল তরুণীই নয়, ওর সঙ্গে থাকা তরুণটিও পুলিশকে কামড়িয়েছে। অবশ্য এরা দুজনই ছিল নেশাগ্রস্ত। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার একটি পানশালার সম্মুখে। পানশালাটি ফুলবাগানের নারকেলডাঙা মেইন রোডে।

এরা প্রথমে পানশালায় এবং পরে বাইরের রাস্তায় নেশার তোড়ে চিৎকারে নেচে গেয়ে রাতের নিস্তব্ধতায় হইচই ফেলে দেন। দৃশ্য এরকম যে উদ্দাম ওই তরুণী কখনও নাচছেন, কখনও গাইছেন, কখনও চিৎকার করছেন। পরনে জিনস্, হাই নেক গেঞ্জি ও ব্লেজার। তার সঙ্গী তরুণটিও সঙ্গে তাল মেলাচ্ছেন। ঘটনা এখানে থেমে থাকলেও কথা ছিল।

পানশালার ভেতরে দু’জন নিরাপত্তারক্ষীর হাতে কামড়ে দিয়ে বাইরে এসেও পুরো এলাকা সরব করে তুলেছেন। রাজপথে রাতের ওই দৃশ্যে ভিড় জমে যায় উৎসুক পথচারীর। ত্রস্ত অবস্থায় তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক অফিসারসহ দুই পুলিশকর্মী। ভিতরে তখন দু’জন নিরাপত্তারক্ষী নিজেদের হাত চেপে কাতরাচ্ছেন।

ধস্তাধস্তিতে জ্যাকেটের পুলিশি তারা লাগানো ‘স্ট্র্যাপ’ ছিঁড়ে গিয়েছে। তরুণী বারবার তার জামা টেনে বলছেন, ‘এই পুলিশ, এই পুলিশ, আমায় ধরবি?’ বলতে বলতে আচমকাই এক পুলিশকর্মীর হাতে কামড় বসালেন ওই তরুণী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তখন ক্রমশ তরুনী থেকে দূরে সরার চেষ্টা করছেন ওই পুলিশকর্মীরা। থানা-লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে সাহায্য চাইছেন তারা।

এর আগে ঋতুপর্ণা সেন নামের ওই তরুণী ও সঙ্গে থাকা তরুণ অশোক সারোগী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পানশালায় কর্মীদের মারধরও করেন ।

পানশালা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ফুলবাগান থানায় খবর দেন। ফুলবাগান থানার টহলদার তিন পুলিশকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই তরুণীকে নিরস্ত করার চেষ্টা করেন। আর তখনই পুলিশকর্মীদের আক্রমণ করে হাত কামড়ে দেন ঋতুপর্ণা। সঙ্গী তরুণটি পড়ে গেলে ফের পুলিশকে আক্রমণ করেন ওই তরুণী। পুলিশের পায়ে কামড় বসিয়ে দেন সঙ্গী যুবকও। পরে ওই যুবককে কোনওক্রমে নিরস্ত করা গেলেও নারী পুলিশকর্মীর অভাবে তরুণীকে প্রথমে নিরস্ত করতে পারেননি ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীরা। থানা থেকে মোটরবাইক করে দুই পুলিশকর্মী ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান। তাদের সঙ্গে আসেন আরও দুই নারী পুলিশকর্মী। তাদের সাহায্যে তরুণীকে নিরস্ত করা হয়। আটক করা হয় তাঁর সঙ্গীটিকেও। ততক্ষণে জখম হয়েছেন পানশালার দুই নিরাপত্তারক্ষী-সহ চার পুলিশকর্মী।

পানশালা কর্তৃপক্ষের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে রোববার রাতেই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার শিয়ালদহ আদালতে হাজির করা হলে ওই দু’জনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেন বিচারক।

থানার পুলিশকর্মীদের দাবি, অনেক রাত পর্যন্ত হাজতের ভিতরেও চিৎকার-চেঁচামেচি করে থানা মাতিয়ে রেখেছিলেন অশোক ও ঋতুপর্ণা।

You Might Also Like