এবার এরশাদের ১৮ দফা ঘোষণা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে ১৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি এ সব প্রস্তাব পেশ করেন।

এরশাদের ১৮ দফার মধ্যে আছে- প্রাদেশিক সরকার প্রবর্তন, নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন, নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রদান, উপজেলায় আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণমুক্ত রাথা, ধর্মীয় মূল্যবোধকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া, ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব দমন করা ইত্যাদি।

এরশাদ বলেন, আমাদের যাত্রা আজ থেকে শুরু হলো। আমরা সরকারের ভালো কাজের সমর্থন দেবো। খারাপ কাজের বিরোধিতা করে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলবো।

এরশাদ সরকারের শাসনামলে দেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি যমুনা সেতু করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এ জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছে টাকা চেয়েছিলাম। তারা দেয়নি। পরে নিজস্ব উদ্যোগে সেতু করার জন্য আপনাদের কাছ থেকে সারচার্জ ধার্য করে ৫শ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিলাম। পরবর্তী সরকারগুলো সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর আমিই প্রতিষ্ঠা করেছিলাম।

তিনি বলেন, ঢাকায় সাতটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করেছিল। ফলে, রাষ্ট্রকে এ জন্য জরিমানা দিতে হয়েছিল। কারণ, যারা কাজ শুরু করেছিল, হঠাৎ কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় হাইকোর্টে রিট করে। ফলে, রাষ্ট্রকে ১৮ কোটি টাকা জরিমানা দিতে হয়েছিল। ওই ফ্লাইওভার হলে আজ ঢাকায় কোনো যানজট হতো না।

তিনি বলেন, বিএনপি ঢাকাবাসীর সঙ্গে অবিচার করেছে।

বিএনপির সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে জেলে পাঠানো হয়েছিল। তখন মাসে একবার স্ত্রী, মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারতাম। কিন্তু এখন খালেদা জিয়ার দুই ছেলে দুই জায়গায়। কতদিন দেখা হয়নি, তার কোনো হিসাব নেই। কবে দেখা হবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, দেশ ক্রিকেট, ফুটবল বা অন্য কোনো খেলায় চাম্পিয়ন হয়। কিন্তু, বিএনপি সরকার বাংলাদেশকে পর পর চারবার দুর্নীতিতে চাম্পিয়ন করেছে। লজ্জা করে না আপনাদের! আপনারা আবার ক্ষমতায় আসতে চান! কোন মুখে আপনারা রাজনীতি করেন!

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পক্ষ নিয়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে নির্বাচন হতো না। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় নির্বাচন হয়েছে।

আমি বলেছিলাম, ঘরে থাকলে খুন, বাইরে গেলে গুম হতে হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস চলছে। ছাত্রদের হাতে কেন অস্ত্র আসবে?

সমাবেশে এরশাদ ১৮ দফা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে অন্যতম- প্রাদেশিক সরকার প্রবর্তন, নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন, নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রদান, উপজেলায় আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

মঞ্চে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জিএম কাদের, মশিউর রহমান রাঙা, মুজিবুল হক চুন্নু, ঢাকা দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ হান্নান, এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ, এমপি, জাপার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, সালমা ইসলাম, এমপি, এসএম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সুনীল শুভরায় প্রমুখ।

You Might Also Like