এবারও চামড়া নিয়ে সংকটে বাংলাদেশ

চামড়া

বাংলাদেশব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করায় এবার কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহের অভিযান পড়েছে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। তার ওপর ট্যানারি মালিকদের কাছে কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের পাওনা টাকা আটকে থাকায় গেলবারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

আড়তদারদের ভাষ্য, করোনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে চামড়ার চাহিদা কমেছে। যে কারণে এবারকাঁচা চামড়ার দাম গত বছরের চেয়েও কমে যেতে পারে বলে তাদের মনে হচ্ছে। ট্যানারিমালিকরাও মনে করছেন, গতবছরের চেয়ে এবার চামড়ার দাম কম হবে। তবে সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফড়িয়ারা চামড়া কিনলে গতবারের মতো লোকসানে পড়তে হবে না।

গত বছর ট্যানারিগুলো চামড়া কেনার জন্য ঢাকায় গরুর কাঁচা চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। আর খাসির কাঁচা চামড়া সারাদেশে ১৮-২০ এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা দর ঠিক করে দিয়েছিল সরকার।

কিন্তু আড়তদারদের কাছে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ও আবর্জনার ভাগাড়ে চামড়া ফেলে গিয়েছিলেন ফড়িয়ারা।

অড়তদারদের অভিযোগ ছিল, ট্যানারি মালিকরা তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া টাকা পরিশোধ করছেন না। ফলে তারা নতুন করে চামড়া কেনার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।

করোনা মহামারীর ধাক্কা আর রপ্তানিতে মন্দারমধ্যে এবারও কাঁচা চামড়া নিয়ে ফড়িয়া আর আড়তদাররা বিপাকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আড়তদাররা লবণ দিয়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করে এরপর ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে বড় অংকের টাকা বকেয়া রাখছে অনেক ট্যানারি মালিকরা। গতকয়েক বছর মিলেয়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে এখন প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেছেন কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান জানান, এবার বকেয়া টাকা ঈদের আগে না পেলে গতবারেরমতো চামড়ার দাম কমে যাবে। এবার সারাদেশের আড়াতদারদের বলতে গেলে কোনো টাকাই দেননি ট্যানারি মালিকরা। তাদের কাছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

টিপু সুলতান বলেন, প্রতি বছরই আমাদেরকে ট্যানারি ও ব্যাংক ঋণেরওপর নির্ভর করতে হয়। গত বছর বকেয়া টাকা পেতে দেরি হওয়ায় একটা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল। আমরা আশা করছি ট্যানারি মালিকরা এবার আগেভাগেই টাকা দিয়ে দিবে এবং আমরা ব্যাংক ঋণের সুবিধাও পাবো। আমাদের চামড়া কেনার প্রস্তুতি আছে। এখন অর্থ পেলেই হবে, তা না হলে গতবারের মতো অবস্থা হতে পারে।

ঈদের দুই-তিনদিন আগে ট্যানারি মালিকরা বকেয়া টাকার বেশকিছু অংশ পরিশোধ করেন জানিয়ে টিপু সুলতান বলেন, ট্যানারি মালিকরা টাকাগুলো ঈদের দুই-তিনদিন আগে না দিয়ে আরও আগে যেন দেন সেজন্য আমরা তাগাদা দিলেও তারা কিন্তু কর্ণপাত করেন না।

এবারকাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকার পোস্তার আড়তদার টিপু সুলতান বলেন, প্রতিবারের মতো আমরা কিন্তু প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। তবে আমরা সংকটে পড়েছি বকেয়া টাকার জন্য। ট্যানারি মালিকদের আমরা যে চামড়া দিবোতার ৫০ শতাংশ টাকাও যদি অগ্রিম দেয় তাহলে ফড়িয়া-আড়তদার ও ট্যানারি মালিক সবার জন্যই ভালো।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য মতে, গত বছর দেশে১ কোটি ৬ লাখের মতো গবাদিপশু কোরবানি হয়েছিল। এসব পশুর চামড়ার ১৫ থেকে ২০শতাংশ নষ্ট হয়েছে। তাই এবার চামড়া স্লোর্টিং থেকে শুরু করে মাংশপেশি থেকে ছড়ানো পর্যন্ত এরপর যারা চামড়া কিনবেন তারা যেন দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখেন সে বিষয়ে সতর্কথাকতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান।

You Might Also Like