‘এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ২৫, গুম ১০’

বাংলাদেশের বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৫ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহতহয়েছেন। এপ্রিল মাসে আওয়ামী লীগের ৪০ টি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময়েআওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৮ জন নিহত ও ৩৯৬ জন আহত হয়েছেন ।অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্য মতে এপ্রিল মাসে ১৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ফলে নিহত ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জন তথাকথিত ক্রসফায়ার/এনকাউন্টার/বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এঁদের মধ্যে র‌্যাবের হাতে ৫ জন, পুলিশের হাতে ৪ জন, কোস্টগার্ডেরহাতে ৩ জ্নএবং র‌্যাব / বিজিবি’র হাতে ২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ফলে নিহত ১৮ জনের মধ্যে ৪ জন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগরয়েছে।আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকেরই কোন খোঁজ পাওয়াযাচ্ছে না। ভিকটিমদের পরিবারগুলোর দাবি, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাঁদের ধরে নিয়েগেছে এবং এরপর থেকে তাঁরা গুম হয়েছেন অথবা তাঁদের লাশ পাওয়া গেছে। যদিও অভিযুক্ত আইন শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইন শৃংখলা রক্ষাকারীবাহিনী প্র মে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিটিকে জনসম্মুখে হাজিরকরছে অথবা দূরবর্তী কোন থানায় নিয়ে হস্তান্তর করছে। অধিকার এর প্রাপ্ত তথ্য মতে এপ্রিল মাসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ১০ জন গুম হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এঁদের মধ্যে গুম হওয়ার পরে ৩ জনের লাশ পাওয়া গিয়েছে এবং ৭ জনকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোহয়েছে।অধিকার এর তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ২৫ জন সাংবাদিক আহত, ২ জন লাঞ্ছিত এবং ২ জন সাংবাদিক হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অধিকার এর তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ ২ জন বাংলাদেশীকে গুলি করে হত্যা করেছে ও ২ জনকে নির্যাতন করে আহত করেছে। একই সময়ে বিএসএফ’র হাতে অপহৃত হয়েছেন ৪ জন।

প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করা, অবিলম্বে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদনির্বাচনের ব্যবস্থা করা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিচারের সম্মুখীন করতে সরকারের প্রতি সুপারিশ করা হয়। আছারা অবশ্যই নির্যাতন বিরোধী জাতিসংঘ সনদের অপসোনাল প্রোটোকলএ গৃহীত সনদ ‘ইনটারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি প্রোটেকশন অফ অল পারসনস্ ফ্রম এনফোর্সড ডিসএপিয়ারেনস্’ অনুমোদন করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয় ওঁই প্রতিবেদনে।

You Might Also Like