একসময় বাংলা নামে এক দেশ ছিল

প্রতিদিন ভোরের আজানের আগে দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে রমজান মাসে ইসলামবিষয়ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। সেদিন পম্পেই নগরের ওপর একটি চমৎকার ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হলো। বর্ণনা করছিলেন একজন বাংলাদেশি হুজুর। প্রায় দুই হাজার বছর আগে পম্পেই ইতালির একটি বর্ধিষ্ণু শহর ছিল, ছিল মানুষের প্রাচুর্য। ইতিহাসে অনেক দৃষ্টান্ত আছে, প্রাচুর্য শুধু একজন মানুষ বা গোত্রকে ধ্বংস করতে পারে না, সভ্যতাকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। গ্রিস, মেসোপটেমিয়া, মিসর তার বড় উদাহরণ। পম্পেই নগরের পাশে ছিল বিসুভিয়াস পর্বত, যা ছিল একটি ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। এই শহরের মানুষ তাদের অঢেল সম্পদের কারণে একসময় নানা ধরনের পাপাচার্যে লিপ্ত হয়। বর্ণনাকারী একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন—এটি ছিল সমকামীদের ক্লাব। সমকামীরা এখানে সন্ধ্যায় জড়ো হতো এবং আমোদ-ফুর্তিতে লিপ্ত হতো। সৃষ্টিকর্তা এত পাপাচার সহ্য করতে না পেরে এই শহরকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন। ৭৯ খ্রিস্টাব্দে বিসুভিয়াস পর্বতকে হুকুম দেন এই নগরকে ধ্বংস করে দিতে। জ্বলে উঠে বিসুভিয়াস। আগুন, জ্বলন্ত লাভা আর ছাইয়ের নিচে চাপা পড়ে যায় পম্পেই নগর আর তার সব মানুষ। এই ঘটনার সাক্ষী থাকল না কেউ। অনেক পরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা খনন করে পম্পেইকে আবিষ্কার করেন (বর্ণনাকারীর ভাষ্য)।

সেদিনের সেই ডকুমেন্টারি দেখে হঠাৎ মনে হলো এমন একটা আগাম কাহিনি তো বাংলা ও বাঙালিদের নিয়ে এখন লিখে যেতে পারি। হয়তো সেটা গল্পই হবে; কিন্তু আগামী প্রজন্মের যখন তা পড়ার সুযোগ হবে তারা বুঝতে পারবে কেমন ছিলেন তাদের পূর্বপুরুষ? গল্পটার নাম দিলাম ‘একসময় বাংলা নামে এক দেশ ছিল’। ভারত উপমহাদেশের পূর্ব প্রান্তে একসময় বাংলা নামে একটি দেশ ছিল, যার নাম ছিল বঙ্গ। বঙ্গ এতই সমৃদ্ধিশালী ছিল যে নিয়মিত বিরতি দিয়ে মারাঠা-বর্গিরা বঙ্গে এসে হানা দিত, মানুষের গোলা ভরা ধান-চাল সোনাদানা লুটপাট করে নিয়ে যেত। এক কবি লিখেছিলেন ‘ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গি এলো দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কিসে’। বঙ্গদেশের মানুষগুলো বেশ অদ্ভুত। সেই দেশে একজন স্বাধীন নবাব ছিলেন, নাম যার সিরাজউদ্দৌলা। একসময় ইংরেজ বণিকরা হাজার মাইল দূর থেকে বঙ্গে এসেছিল ব্যবসার নামে লুটপাট করতে। বাদ সাধলেন নবাব। নবাবের রাজধানী মুর্শিদাবাদ নামক একটি শহরের কিছু দূরে পলাশী নামক এক স্থানে নবাবের সৈন্যদের সঙ্গে ইংরেজদের যুদ্ধ হয় ১৭৫৭ সালে। যুদ্ধ হবে, এলাকার মানুষ আগে থেকেই জানত। তাদের কাছে এই যুদ্ধটা ছিল একটি আনন্দের বিষয়। সকাল থেকে জড়ো হয়েছিল এই যুদ্ধের ময়দানের চারপাশে তামাশা দেখতে। কেউ কেউ গাছেও চড়েছিল। পাশের মাঠে চাষি চাষাবাদেও লিপ্ত ছিল। তারাও আনন্দের জন্য অপেক্ষা করছিল। একসময় যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। তখন সবার হাত তালি। সেই যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয় হয় এবং পরের দুই শ বছর বাঙালি ইংরেজদের প্রজা হয়ে যায়। ঐতিহাসিকরা বলেন, সেদিন যাঁরা তামাশা দেখছিলেন সেই মানুষরা যদি ইংরেজদের প্রতি দুটি করে ঢিল ছুড়তেন তাহলে তারা হেরে যেত।

রাজনীতির জাঁতাকলে পরে বঙ্গ নামের দেশটি ১৯৪৭ সালে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেল ঠিকই; কিন্তু অনেক বৈশিষ্ট্য ভাগ হওয়া দুই বঙ্গের সন্তানদের বদলায়নি। একই নদী। ওপারে বলে গঙ্গা এপারে পদ্মা। আধঘণ্টার বিমান যাত্রার পর এপারের মানুষের কাছে যা ছিল পানি তা হয়ে যায় জল। এপারে যাদের সম্মান করে ভাই ডাকে, তাকে ওপারে ডাকা হয় দাদা বলে। এপারে মিয়াভাই একটা সম্মানজনক সম্বোধন। ওপারে মিয়া হয়ে যায় অসম্মানজনক। দুপারের মানুষই অসাধারণ ভালো, একে অন্যের আনন্দ ও বেদনা ভাগাভাগি করে নিতে জানে, যা ১৯৭১ সালে এপারের মানুষ দেখেছে। সেই কাহিনিটাও বলতে হয়। ১৯৪৭ সালে দেশি-বিদেশি রাজনীতিবিদরা যখন ষড়যন্ত্র করছিলেন—এই বঙ্গকে দুর্বল করতে ভাগ করে দিতে হবে, ঠিক তখন এই বঙ্গেরই আরেক দল বঙ্গসন্তান তাতে সায় দিয়েছিল। ভাগ হওয়ার পর এপারের বঙ্গের নাম হলো পূর্ববঙ্গ, যা পরিবর্তন করে হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান। পশ্চিম পাকিস্তানও একটা ছিল, তা ছিল ভারত বর্ষের পশ্চিমে, হাজার মাইল দূরে। দুটি নাকি এক দেশ। এক অদ্ভুত কাণ্ড। আসলে পশ্চিম পাকিস্তান বলতে যা বোঝায় সেই অংশের লোকজনের পূর্ব বাংলায় শোষণ করতে এত সব কীর্তি। সেখানেও বাঙালিদের এক অদ্ভুত অংশ তাদের সমর্থন করেছিল। আসলে তাদের জন্মই হয়েছিল শাসিত হওয়ার জন্য, শাসন করার জন্য নয়। তা যদি না হতো পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব পরাজিত হতেন না। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ কাজে-অকাজে এপার থেকে ওপারে যায় আর ওপার থেকে এপারে আসে।

পূর্ব বাংলার মানুষকে পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ ২৩ বছর ধরে শোষণ ও শাসন করেছিল। তারপর তাদের মাঝ থেকে শেখ মুজিব নামের এক নেতার নেতৃত্বে দেশটা স্বাধীন হয়েছিল। প্রাণ দিয়েছিল ৩০ লাখ বাঙালি। নতুন দেশটির নাম হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই অদ্ভুত মানুষদের একটা অংশ সেই শেখ মুজিবকে, যাঁকে তাঁর দেশের মানুষ আদর করে নাম দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু, বাংলার বন্ধু, তাঁকে সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের মানুষ ছিল কৃষিনির্ভর। আর কৃষি ছিল প্রকৃতিনির্ভর। প্রকৃতির কারণে প্রায় প্রতিবছর দেশটিতে খাদ্যাভাব দেখা দিত। কিন্তু দীর্ঘ চার দশকের প্রচেষ্টায় দেশটির মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করা শুরু করে, সঙ্গে ছোটখাটো শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। একটি গরিব নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বাংলা নামের দেশটি একসময় মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়। কিন্তু এই দেশের মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রের আইনকানুন না মানার একটি প্রচণ্ড প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে যারা ব্যবসায়ী শ্রেণির মানুষ ছিল, তাদের একটা বড় অংশ ছিল অত্যন্ত লোভী। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে পুঁজি করে তারা অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনে বেশ পারদর্শী ছিল। যে যত বড় ব্যবসায়ী, সে তত বড় লোভী। মুরগির ওজন বৃদ্ধি করার জন্য তাকে পাথর খাওয়ানো হতো। মানুষ এক কেজি জিনিস কিনলে দেড় শ গ্রাম কম পেত। প্রতিবাদ করার কোনো উপায় ছিল না। দেশটা একসময় চোর-বাটপারে ভরে গিয়েছিল। গরিব মানুষকে সরকারের দেওয়া বিনা পয়সার খাদ্যদ্রব্য চুরি করা এক শ্রেণির জনপ্রতিনিধির অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। আর সরকারের ভেতর কিছু মানুষ ছিল, যারা হাজার টাকার জিনিস লাখ টাকায় কিনত আর লাখ টাকারটা কোটি টাকায়।

২০২০ সালে হঠাৎ সারা বিশ্বে কভিড-১৯, যা করোনাভাইরাস নামে এক ভয়াবহ রোগ হানা দিল। শুরুটা হয়েছিল চীন দেশের একটি অঞ্চলে। কিছুদিনের মধ্যে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে আর সব বড় বড় উন্নত দেশে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কুকুর-বিড়ালের মতো রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগটির কোনো ওষুধ জানা ছিল না, তবে এটি জানা গেল এই রোগে আক্রান্ত একজন আরেকজনের সংস্পর্শে এলে সেও আক্রান্ত হয়। একজন আক্রান্ত রোগী কোনো একটি চেয়ারে বসলে সেখানে যদি কেউ একজন সুস্থ মানুষ বসে তিনিও আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। এমনকি গাড়ির হাতল, দরজার চাবি, একজনের ব্যবহার করা চায়ের কাপ, আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশি ইত্যাদি যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় এই রোগের জীবাণু সংক্রমিত হয়ে অসুস্থ হয়ে যেতেন। কয়েক দিনের মধ্যে অনেক রোগীর মৃত্যুও হয়ে যেত। ভাগ্য ভালো থাকলে কেউ কেউ ভালোও হয়ে উঠতেন।

আক্রান্ত দেশগুলোতে অবস্থা এমন হয়েছিল যে মৃতদেহ কবর দেওয়ার মানুষ পাওয়া যাচ্ছিল না। এই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে অনেক সময় সমাজচ্যুত করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে বাবা আক্রান্ত হলে ছেলে বাবাকে, স্বামী স্ত্রীকে জঙ্গলে ফেলে আসত। অবস্থা ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে সব দেশের সরকার নিজ নিজ দেশের মানুষকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করে। আর যদি বের হতে হয় তাহলে অন্যজন থেকে যেন কমপক্ষে তিন ফুট দূরে থাকে। কোনো কোনো দেশে বলা হলো কোনো অবস্থাতেই বের হওয়া যাবে না, হলে পুলিশ গুলি করবে। তখন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ছিলেন দেশটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা। তিনিও বাবার মতো দেশ ও দেশের মানুষকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। তিনি সবাইকে অনুরোধ করলেন—‘আপনারা নিজের স্বার্থে ঘরে থাকুন, যাদের প্রয়োজন তাদের বাড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দেওয়া হবে।’ কিন্তু বাঙালি ছোটকালে তাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা পড়েছিল, যার প্রথম লাইনটি ছিল ‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে দেখব এবার জগত্টাকে’। সেটি তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিল এবং কারণে-অকারণে তারা রাস্তায়, বাজারে, অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। অনেক চেষ্টা, অনুরোধ, ভয়ভীতি দেখিয়েও তাদের নিবৃত্ত করা যাচ্ছিল না। সেই দেশে একসময় রাস্তার পাশে কিছু মানুষ চুলকানির মলম বিক্রি করত। তাদের ব্যবসায় ভাটা পড়লে তারা হয়ে যায় ধর্মব্যবসায়ী। সাধারণ অশিক্ষিত মানুষকে বোঝায় করোনা মুসলমানদের আক্রমণ করবে না। একজন বলে তার সঙ্গে করোনার দুই ঘণ্টা আলাপ হয়েছে। করোনা তাকে অভয় দিয়ে বলেছে সে বাংলাদেশে আসবে না, কারণ বাংলাদেশের মানুষ খুব ধর্মকর্ম করে। তার সামনে বসা নাদান শ্রোতারা তখন বলত ‘বেশ বেশ’। পরিস্থিতি যখন খারাপের দিকে যাওয়া শুরু করল তখন সেই নালায়েকরা সাধারণ মানুষের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়ে।

সরকার যখন দেশের একটি বড় অংশের মানুষকে ঘরে রাখতে ব্যর্থ হলো তখন সিদ্ধান্ত হলো সব কিছু খুলে দেওয়া হোক, যার মরার ইচ্ছা আছে তাকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। যেই কথা সেই কাজ। করোনায় আক্রান্ত বা সুস্থ সবাই বের হতে পারবে, ঈদের বাজার করতে যেতে পারবে, মসজিদে প্রার্থনা করতে কোনো অসুবিধা আর থাকবে না, দোকানপাট সব খোলা। শুধু বিদ্যাপীঠগুলো বন্ধ থাকবে, কারণ এখানে জ্ঞানের চর্চা হয়। যুক্তিটা হচ্ছে, যে দেশে জ্ঞানের কোনো কদর নেই, যেখানে রাস্তার পাশে মলম বিক্রি করা মানুষ বলে তার সঙ্গে মারণ ব্যাধি করোনার আলাপ হয়েছে এবং শোনার জন্য মানুষ লাখ টাকা নজরানা দিয়েছে, সেখানে জ্ঞানের চর্চার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে সরকার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। সরকারি এই সব সিদ্ধান্তের পর করোনার ছোবলে দেশটাতে শুরু হলো ভয়ংকর মহামারি। মানুষের এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা শুরু হলো। বছরখানেকের মধ্যে এই দেশ জনশূন্য হয়ে গেল। অল্প কিছু যারা বেঁছেছিলেন তাঁরা খাদ্যের সন্ধানে ভিন দেশে পাড়ি জমালেন। অতএব পম্পেই নগরের মতো বাংলা নামের দেশটারও বিলুপ্ত ঘটল। তবে দুঃখের বিষয় হলো সরকার যখন দেশের মানুষকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তখন সরকারকে সহায়তা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। অত্যন্ত কষ্টার্জিত দেশটির বিলুপ্তির সূচনা করেছিল দেশটির বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কিছু মালিক। তাঁরা সরকারকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন তাঁদের কারখানা না খুললে তাঁদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। তাঁরা দেশের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছেন ঠিক, কিন্তু বাংলা নামের দেশটার বিলুপ্তি ঘটাতে প্রথম বাঁশিটা বাজিয়েছিলেন এই একই ব্যক্তিরা। বাংলা নামের এই দেশটার বিলুপ্ত মানুষদের জন্য আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে পারি।

[লেখাটি কাল্পনিক। মৃত বা জীবিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে লেখায় বর্ণিত কোনো বিষয় বা ঘটনার মিল থাকলে তা নিছক কাকতালীয়]

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

You Might Also Like