একটি বিশেষ বাহিনী গুম-খুন করছে : খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বাইরে থেকে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়েছে। সেই বাহিনী দেশব্যাপী গুম-খুন করছে। এই বাহিনী র‌্যাব-পুলিশের চেয়েও শক্তিশালী। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এই অবৈধ সরকারের নেই।

জাতীয় প্রেসক্লাবে পূর্বঘোষিত গণঅনশন কর্মসূচি পালন শেষে রোববার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের খুন, গুমের ঘটনা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেছেন, আমরা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) যদি ঘটনাস্থলে আগে যাই তাহলে আমরাও গুম হয়ে যেতে পারি। এই হলো বর্তমান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

র‌্যাব-পুলিশের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, একটি বিশেষ জায়গার পুলিশরা বেশি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। এ কারণে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বেগম জিয়া বলেন, সরকারের এই অন্যায় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ওই বিশেষ জায়গার পুলিশরা জনগণকে নির্যাতন হয়রানি করছে। তারা মনে করছে, এই অবৈধ সরকার চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত এই সরকার চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে না।

ক্ষমতাসীন শাসক দলের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, বন্দুকের কামান ও গুলি করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। চামচা মন্ত্রী-এমপিরা যতই বলে বেড়াক তারা পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে। তাদের সে স্বপ্নপূরণ হবে না। নির্বাচনে আসতেই হবে, নির্বাচন দিতেই হবে। সময় থাকতে পদত্যাগ করুন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

বেগম জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ চায় দেশকে ধবংস করে মানুষের রক্ত ঝড়াতে। প্রভুদের নির্দেশে দেশের মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে এই অবৈধ সরকার। তাই যতদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে ততদিন পর্যন্ত দেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে।

গুম-খুন-অপহরণের হাত থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে সকল রাজনৈতিক দল সুশীল সমাজ, পেশাজীবী, রাজনৈতিক দল সবাইকে দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাজপথে নামার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

সারা দেশে গুম-অপহরণ আর খুনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারের লোকেরা দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। চারিদিকে এখন রক্ত আর রক্ত। দেশের মানুষের চোখে শুধু পানি আর পানি। কিন্তু মানুষের এই চোখের পানি আর আমরা দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত সরকার এবং সরকারি দলের লোকেরা। তাই অপহরণকারীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের এসব অন্যায়-অত্যাচার থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামতে হবে। সরকারকে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এই সরকারের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগ সারা দেশে জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন করছে। কিন্তু এই সরকার তাদেরকে দমানোর ক্ষমতা রাখে না। কারণ হিসেবে বেগম জিয়া বলেন, এই সরকার নিজেই জুলুমবাজ। তারা নিজেরা জনগণকে অত্যাচার-নির্যাতন করছে। গুম-অপহরণ করছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ঢারম্যান এরশাদকে খুনি আখ্যা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই এরশাদ খুনি। তিনি জিয়া ও মঞ্জুর হত্যায় জড়িত। এর বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগ সেই খুনিদের নিয়ে চলছে। বিএনপির সঙ্গে নয় আওয়ামী লীগের সঙ্গেই জঙ্গিরা জড়িত।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে গণঅনশনে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এম কে আনোয়ার, হান্নান শাহ, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আব্দুল্লাহ আল-নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শামসুজ্জামান দুদু, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এডভোকেট খন্দকার মাহবুবু হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, আসাদুল হাবীব দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলমসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

১৯ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে কাজী জাফর আহমেদ, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাস, আব্দুল লতিফ নেজামী, ড. রেদোয়ান উল্লাহ শাহেদী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-, গুম-খুন, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানসহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *