হোম » এই প্রথম উ. কোরিয়ার ফেরি রাশিয়ায়

এই প্রথম উ. কোরিয়ার ফেরি রাশিয়ায়

ঢাকা অফিস- শুক্রবার, মে ১৯, ২০১৭

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে ফেরি যোগাযোগ শুরু হলো।

এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার যাত্রীবাহী একটি ফেরি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর ভ্লাদিভস্টকে নোংর করল। ম্যাংইয়ংবং নামের ফেরিটি সপ্তাহে একবার এই বন্দরে যাবে এবং যাত্রী ছাড়াও কর্গো বহন করবে।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে ফেরি যোগাযোগ চালু হলো। উদ্বোধনী যাত্রায় চীনের একটি ভ্রমণ কোম্পানি তাদের কয়েকজন কর্মকর্তাকে উত্তর কোরিয়ার ফেরিতে পাঠিয়েছে।

ফেরিটিতে একটি রেস্তরাঁ, কয়েকটি বার ও কারায়োক রুম রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই নৌযানে চড়ে চীনা পর্যটকরা রাশিয়া ও সমাজতান্ত্রিক উত্তর কোরিয়া পরির্দশন করতে পারবেন।

রাশিয়ার ইনভেস্টস্ট্রোই ট্রেস্ট নামে একটি কোম্পানি উত্তর কোরিয়ার রাজিন বন্দর থেকে ফেরিটি পরিচালনা করছে। রাশিয়ান এই কোম্পানি রাজিনে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় নিয়োজিত আছে। তারা ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও মালবাহী নৌযান পরিচালনা করে থাকে।

২০১৫ সালে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্টকে অনেক উত্তর কোরীয় শ্রমিকদের দেখা যায়। কঠিন বামঠাঁসা এই দেশের নাগরিকরা তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য সেখানে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে থাকে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ফেরি সার্ভিস চালু করায় রাশিয়ার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি রাশিয়াকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে। আদর্শিকভাবে পশ্চিমাবিরোধী হওয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোসিসকায়া গেজেটা জানিয়েছে, ম্যাংইয়ংবং নৌযানে প্রয়োজনীয় মালামাল ও অন্যান্য কার্গো বহন করবে এবং এক্ষেত্রে রাশিয়ার আইনকানুন মেনে চলা হবে।

রাশিয়ার বার্তাসংস্থা তাস জানিয়েছে, ম্যাংইয়ংবং তৈরি হয় ১৯৭১ সালে এবং গত বছর এর সংস্কার করা হয়। এটি ২০০ যাত্রী এবং ১ হাজার ৫০০ টন মাল বহন করতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের যেসব নিষেধাজ্ঞা
১। যেকোনো দেশের সঙ্গে সব ধরনের অস্ত্র ব্যবসা নিষিদ্ধ
২। পরমাণু অস্ত্রসংক্রান্ত সব ধরনের প্রযুক্তির বাণিজ্য নিষিদ্ধ
৩। রকেট ও বিমানের তেল কেনাবেচা নিষিদ্ধ
৪। উত্তর কোরিয়ার কয়লা, লোহা, লোহার আকরিক ও অন্যান্য ধাবত মালামাল কেনা নিষেধ
৫। পিয়ংইয়ংয়ের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন প্রত্যাহার করা
৬। উত্তর কোরিয়ার কাছে মূল্যবান খনিজ, স্বর্ণ ও নৌকা বিক্রি নিষিদ্ধ