হোম » এআই প্রযুক্তিতে যে কারো ফেক পর্নো ভিডিও!

এআই প্রযুক্তিতে যে কারো ফেক পর্নো ভিডিও!

ঢাকা অফিস- Saturday, December 16th, 2017

মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ভুল মানুষের হাতে পড়লে কি ঘটতে পারে, তারই চমকপ্রদ প্রমাণ ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ অভিনেত্রী গাল গাদোতকে দেখা যাওয়া সাম্প্রতিক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য পর্নো ভিডিও।

পর্নো ভিডিওটিতে এই অভিনেত্রী অভিনয় না করলেও, মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তাকেই দেখানো হয়েছে। সহজ ভাবে বললে, প্রযুক্তির সাহায্যে এই অভিনেত্রীর ফেক অর্থাৎ ভুয়া পর্নো ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

ভিডিওটি তৈরি করেছেন ডিপফেকস নামের একজন রেডডিট ব্যবহারকারী। ভিডিওতে অন্য একজন নারীর উপর অভিনেত্রী গাদোতকে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও তা নিখুঁত হয়নি। ভিডিওর মূল পুরুষটির মধ্যেও অন্য একজন পুরুষের চেহারা বসানো হয়েছে।

ইউটিউবে থাকা গাদাতের ভিডিওগুলো, গুগল সার্চের ছবি এবং নিজস্ব সংগ্রহের ছবিগুলোর ওপর মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ট্রেইন করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই কৌশল কেবল রকেট বিজ্ঞানে ব্যবহারের মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই।

নতুন এই পর্নো ভিডিওটির সন্ধান পেয়েছে প্রযুক্তি বিষয়ক নিউজপোর্টাল মাদারবোর্ড। ভিডিওটি যদিও কাউকে বোকা বানাতে পারে না অর্থাৎ দেখেই বোঝা যায় ভুয়া ভিডিও কিন্তু এটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের জন্য একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, মেশিন লার্নিং অপব্যবহার করে কোনো মানুষের অজান্তেই তার ফেক পর্নো ভিডিও এবং অন্যান্য ক্ষতিকর ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা যেতে পারে।

অভিনেত্রী গাদোতের ভিডিওটি একমাত্র নয়। মাদারবোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেডডিটের ‘ডিপফেকস’ নামের ওই ব্যবহারকারী পেশায় একজন প্রোগ্রামার। আরো কয়েকজন তারকার অনুরূপ পর্নো ভিডিও তৈরি করেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় গায়িকা টেইলার সুইফট, গেম অব থ্রোনস অভিনেত্রী মেইজ উইলিয়ামস।

এই প্রোগ্রামার ফেক পর্নো ভিডিওগুলো তৈরি করেছেন ওপেন সোর্স (সকলের জন্য উন্মুক্ত) মেশিন লার্নিং টুলসের সহায়তায়। চলমান পর্নো ভিডিওর মধ্যে অভিনেত্রী গাদাতোর আনুমানিক ছবি তৈরি করার জন্য আসল পর্নো ভিডিও ও গাদোতের ছবির ওপর অ্যালগরিদম ট্রেইন করা হয়েছে।

মাদারবোর্ডকে ডিপফেকস বলেন, ‘চেহারা-সোয়াইপ করার জন্য আমি কেবল বুদ্ধিমান একটা উপায় খুঁজে পেয়েছি। এর মাধ্যমে শত শত ছবি নিয়ে, নেটওয়ার্ক ট্রেইন করার জন্য আমি সহজেই লাখ লাখ ভুয়া চেহারা তৈরি করতে পারি। যখন আমি নেটওয়ার্ককে অন্য কারো চেহারা দিচ্ছি তখন নেটওয়ার্ক সেটিকে ভুয়া চেহারা মনে করে এবং ট্রেইনিং চেহারায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে।’

সংবাদমাধ্যমটির মতে, অপেশাদার ভিডিওটি উদ্বেগের বিষয়টিকে তুলে ধরেছে। দেখিয়েছে যে, উন্মুক্ত রিসোর্স কিভাবে ফেক ভিডিও তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে বর্তমানে প্রায় সকলেই নিজেদের ছবি আপলোড করে থাকে। যার মানে, পরিচিত কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে কেউ এই কৌশল ব্যবহার করতে পারে।

এআই গবেষক অ্যালেক্স চ্যাম্পেন্ডার মাদারবোর্ডকে বলেন, ‘প্রত্যেকেরই জানা উচিত কত সহজেই ভুয়া ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা যায়। কয়েক মাস পরে হয়তো আমরা আসল এবং নকল আলাদা করতে পারবো না। এটি প্রতিরোধের জন্য অনেক বেশি গবেষণার প্রয়োজন হবে।’

প্রসঙ্গত, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির একটি শাখা হচ্ছে, মেশিন লার্নিং। এটি এমন এক ধরনের প্রসেস যেটা কোনো মেশিন বা সফটওয়্যরকে কোনো কিছু নিজে নিজে শিখতে সাহায্য করে এবং বেশি আপডেট হতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল