হোম » উত্তর প্রদেশে মুসলমানদের হুমকি দিয়ে পোস্টার: ‘মাইকে নামাজ চলবে না’

উত্তর প্রদেশে মুসলমানদের হুমকি দিয়ে পোস্টার: ‘মাইকে নামাজ চলবে না’

ঢাকা অফিস- Tuesday, March 28th, 2017

ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের বেরেলিতে মাইকে নামাজ না পড়ার জন্য হুমকি দিয়ে প্রচারপত্র ছড়ানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মুসলিমরা ভালোভাবে বাস করতে শেখো এবার আমাদের সরকার এসে গেছে। মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে ওই প্রচারপত্রে।

বেরেলিতে কিছুদিন আগেও মুসলিমদের হুমকি দিয়ে পোস্টার লাগানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে সুভাষনগর থানা এলাকার দুটি মসজিদ চত্বরে ওই প্রাচারপত্র ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি মানুষের চোখে পড়ে।

প্রচারপত্রে হুমকি দিয়ে বলা হয় মসজিদে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে নামাজ পড়া বন্ধ করে দাও। অন্যথায় দুটি মসজিদে নামাজ হতে দেয়া হবে না। এটাকে নিছক হুমকি বলে না ভাবার কথাও বলা হয়েছে। প্রচারপত্রের নীচে সকল হিন্দুর কথা লেখা হয়েছে।

ওই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে। তারা ওই প্রচারপত্র নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আশেপাশের লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারীরা বলছেন, গভীর রাতে মোটরবাইকে করে কিছু যুবক মত্ত অবস্থায় গালিগালাজ এবং গোলযোগ সৃষ্টি করতে করতে যাচ্ছিল। তারা উত্তেজক স্লোগানও দিয়েছিল। ওই ঘটনায় তারা যুক্ত থাকতে পারে।

সিও স্নেহলতা বলেন, ওই ঘটনায় দুর্বৃত্তদের হাত থাকতে পারে। হস্তাক্ষর যাতে না মিলে যায় সেজন্য কম্পিউটারের সাহায্য নেয়া হয়েছে। ওই এলাকার দুটি মসজিদেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ মার্চ বেরেলি জেলার শীসাগড় থানা এলাকায় একটি গ্রামে কমপক্ষে ২০ টি হুমকি পোস্টার পাওয়া গিয়েছিল। এসব পোস্টারে মুসলিমদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রাম ত্যাগ করার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায় মারাত্মক ফল ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেরকম করছেন গ্রামটিতে তেমন করা হবে বলে বলা হয়। পোস্টারটির নীচে সেসময় যোগী আদিত্যনাথের নামও ছাপা ছিল।

গত ১৪ মার্চ রাতে উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকার একটি মসজিদে বিজেপি’র পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করায় সেখানে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

গত ১২ মার্চ একটি মসজিদে বিজেপি’র পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে বুলন্দশহরের পুলিশ দ্রুত ওই মসজিদ থেকে পতাকা নামিয়ে ফেলে। এনিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রেও থানায় অজ্ঞাত লোকেদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।