উত্তরের মেয়র- মনে হচ্ছে, পারবেন

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়রের নাম আনিসুল হক। নোয়াখালী জেলায় জন্ম নেয়া ভদ্রলোকের বর্তমান বয়স প্রায় ৬৩ বছর। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ কিংবা অর্থমন্ত্রী মুহিতের আয়ুষ্কাল বিবেচনা করলে জনাব হক এখন ‘মধ্য বয়সী একজন যুবা’ মাত্র। জীবনের শুরুটা হয়েছিল একজন মহান কর্মযোগী মানুষের অধীনে চাকরির মাধ্যমে। বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের জনক, নুরুল কাদেরের দেশ গার্মেন্টে চাকরি করার একপর্যায়ে তিনি নিজে ব্যবসা শুরু করেন ১৯৮৬ সালে। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একটির পর একটি সফলতা তাকে অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল। আর সেই সুযোগটিই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেছে বিগত ঢাকা সিটি নির্বাচনে তাকে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়ে।

আনিসুল হকের মনোনয়নে আরো অনেকের মতো আমিও খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের সময় দলীয় নেতাকর্মীদের বহুমুখী জ্বালাতনে তিনি যখন ত্যক্তবিরক্তের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন, তখন তার অন্যসব শুভার্থীর মতো ব্যথিত হয়েছিলাম। একটি বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যখন একজন গ্রহণযোগ্য সম্মানিত মানুষকে মেয়র বলে তুলে ধরা হলো তখন আমি বন্ধুবৎসল সংস্কৃতিমনা মানুষটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লাম। কারণ আমাদের দেশের প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি কাউকে ক্ষমা করে না- কাউকে অবসর নিতে কিংবা পূর্বেকার অবস্থায় ফেরত যেতে দেয় না। মানুষ যতো ভালো কাজই করুক না কেনো, তার প্রতিপক্ষ কেবল রাজনৈতিক কারণে তাকে নাজেহাল না করে ছাড়বে না। এত আশঙ্কার মধ্যেও জনাব হককে নিয়ে আমার আশা ছিল ভারতের পরলোকগত রাজনীতিবিদ মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো।

মাওলানা আজাদ ভারতবর্ষের রাজনীতির প্রবাদপুরুষ। সারা জীবন কংগ্রেসের রাজনীতি এবং অখণ্ড ভারতের জন্য আন্দোলন করেছেন। তিনি মুসলিম লীগের দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় মনেপ্রাণেই চাননি। কিন্তু ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান সম্পর্কে অসাধারণ একটি মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি সারা জীবন বিশ্বাস করেছি, একটি অখণ্ড ভারতে মুসলমানেরা বেশি নিরাপদ থাকবে। পাকিস্তান সৃষ্টির পরও সেই বিশ্বাসে অটল আছি। তবুও সর্বান্তকরণে কামনা করছি, পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভালো করুক।’

এবার নিজের প্রসঙ্গে আসি। কোনো দিন মনে করিনি যে, একটি প্রতিযোগিতাহীন কারচুপির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কল্যাণ হতে পারে। আর এ কারণে ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে ছলচাতুরী কিংবা ভোট ভোট খেলার জালিয়াতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র পর্যন্ত কিনিনি। প্রায় দুই বছর পরও মনে হচ্ছে- সঠিক কাজটিই করেছি এবং আওয়ামী লীগ ভুল করেছে। এ দল যদি ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তখন জীবিত থাকি, শেষ পর্যন্ত বলে যাবো, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন সঠিক ছিল না।’ একইভাবে আমি মনে করেছিলাম, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কারচুপি করবে না; বরং দৃষ্টান্তমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে তার অতীতের কলঙ্ক দূর করার চেষ্টা করবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল ঠিক উল্টো। সিটি নির্বাচনে তারা এমন কিছু করল, যা বাংলাদেশের অতীতের সব নির্বাচনী কুকর্মকে ছাড়িয়ে গেল। অবাক বিস্ময়ে বিশ্ববাসী দেখল- ‘ইলেকশন কাহাকে বলে, উহা কত প্রকার এবং কী কী?’

আমি জানি, ব্যক্তিগতভাবে জনাব আনিসুল হক অনিয়মতান্ত্রিক কিছু আশা করেননি। কিন্তু নিয়তি তখন তার ইচ্ছায় চলছিল না। ফলে দেশবাসীর মতো জনাব হকও অবাক বিস্ময়ে শুনলেন, তিনি মেয়র হয়ে গেছেন। অদৃষ্টবাদী মানুষ হিসেবে মনে করলাম, হয়তো এসবের মধ্যেও মঙ্গল রয়েছে এবং মনে মনে মেয়র পদবির মানুষটির সফলতা কামনা করতে থাকলাম। এ কামনা এমনি আসেনি; এসেছিল তার অতীতের অনেক সফল কর্মের বর্ণাঢ্য ইতিহাস জানার কারণে। তার শিক্ষা, দীক্ষা, কর্মপদ্ধতি, সামাজিক অবস্থান, নৈতিক ও মানসিক দৃঢ়তা ভালো কাজের উপযুক্ত বিধায় তিনি অতীতকে অনেক সফলতা দিয়ে সাজাতে পেরেছিলেন।

সাম্প্রতিককালে দুটো কারণে আমার মনে হলো, তিনি ভালো করতে পারেন। আবার অন্য দুটো কারণে মনে হচ্ছে, ভালো না-ও করতে পারেন। প্রথমে বলে নেই, কেন তিনি ভালো করতে পারবেন। তারপর বলব না পারার ইতিবৃত্ত। তার নামের পাশে ‘মেয়র’ পদবি যুক্ত হওয়ার পর বেশ কয়েক মাস কেটে গেছে। এই সময়ের মধ্যে তার গায়ের রঙ কিছুটা বিবর্ণ হয়ে গেছে এবং তিনি বেশ কিছুটা শুকিয়ে গেছেন। আমাদের দেশের সাধারণ প্রথা হলো, মানুষ নতুন পদ-পদবি পেলে তার গায়ের রঙ উজ্জ্বল হয়ে যায় এবং শরীরে মেদের আধিক্য দেখা দেয়। কথায় কথায় উচ্চবাচ্য করে। অকারণে হাসে, গুনগুনিয়ে গান গায় এবং অতিমাত্রায় বদরাগী হয়ে ওঠে। সে তার পূর্বপরিচিত বেশির ভাগ লোকজনকে ভুলে যায়। নতুবা পূর্বপরিচিতদের নিয়ে একটি দুর্ভেদ্য দেয়াল গড়ে তোলে। চলার সময় হেলেদুলে হাঁটে এবং চলতি পথে রহস্যভরা চোখ নিয়ে এদিক সেদিক তাকায়। উদ্দেশ্য, লোকজনকে আকার ইঙ্গিতে বলা- দ্যাখ আমি কী হয়েছি। এর বাইরে আরো একটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়, পদ-পদবিধারীর ঘুম বেড়ে যায় অথবা ঘুম চলে যায়।

আনিসুল হকের শুকিয়ে যাওয়ার মধ্যেই তার সফলতা দেখতে পাচ্ছি। তিনি সম্ভবত কায়িক পরিশ্রমের পাশাপাশি তার নতুন এই পদের জন্য বেশ চিন্তাভাবনাও করছেন। তার ব্যবসায়িক জীবনের বয়স প্রায় ৩০ বছর। আমার জানা মতে, গত ১০ বছর তিনি নিজস্ব ব্যবসা দেখাশোনার চেয়ে সামাজিক কাজকর্ম, ট্রেড পলিটিক্স এবং বিভিন্ন উপলক্ষে ঘরে কিংবা বাইরে বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের নিয়ে আড্ডা জমানোর কাজেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। কিন্তু নতুন পদে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি সেসব কাজ শুরু করলেন যা হয়তো জীবনে করেননি। পান্থপথের মোড়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের নির্মাণকাজে ত্রুটির কারণে পার্শ্ববর্তী রাস্তায় ধস নামা শুরু হলো এবং সুন্দরবন হোটেলসহ আশপাশের ভবনগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ল। সেদিন তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেন এবং বলতে গেলে, সারাটি রাত দাঁড়িয়ে থেকে দেবে যাওয়া স্থানে বালি ফেলার কাজ তদারক করলেন।

পত্র-পত্রিকায় দেখি, তিনি সময় পেলেই প্রচুর দৌড়াদৌড়ি করেন। বিভিন্ন পাড়ামহল্লা, অফিস আদালত, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্র উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট লোকজনের সাথে নগরের সমস্যা এবং সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি অবৈধ বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলার কাজ শুরু করেছেন এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। নিয়মিত অফিস করেন এবং করপোরেশনের সব শ্রেণীর কর্মকর্তার নিয়মিত হাজিরা বা অফিসে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি কঠোরতার সাথে নিশ্চিত করেছেন। সেখানকার প্রায় পৌনে দুইশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করে দেশে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। নগরবাসী মনে করতে শুরু করেছে যে, উত্তর সিটি করপোরেশনে হয়তো ভালো কিছু একটা হতে যাচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের বাইরে তিনি ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করে নগরবাসীর জন্য বেশ বড় রকমের আর্থিক অনুদান ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্য দিকে, নাগরিক সমাজ, সুশীলসমাজ, বুদ্ধিজীবী, পরিবেশবিদ, নগরবিদ, মানবাধিকার এবং নারী, ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠনসহ নানা শ্রেণী ও পেশার লোকজনের একটি সেতুবন্ধ তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সভা, সমিতি, গোলটেবিল, টকশো ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি গণসচেতনতা সৃষ্টি করছেন; অন্য দিকে লোকজনকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষমতার বলয় এবং কর্মের অধিক্ষেত্রগুলো। তিনি ইতোমধ্যে খুব ভালো করে বুঝে গেছেন যে, তার ব্যক্তিগত অফিস পরিচালনা এবং মেয়রের অফিস পরিচালনা এক কথা নয়। তিনি আরো বুঝে গেছেন, সব কাজ তিনি করতে পারেন না এবং পারবেনও না। অন্য দিকে, লোকজন তার কাছ থেকে হয়তো এমন কিছু আশা করে যা তার ক্ষমতা, সাধ ও সাধ্যের বাইরে । আর এসব কারণেই তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণের সাথে মতবিনিময়ের চেষ্টা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন।

বলছিলাম তার শুকিয়ে যাওয়া নিয়ে। মনে হচ্ছে, তিনি তার নতুন পদ ও পদবির জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করছেন এবং এ কারণেই অনেকটা শুকিয়ে গেছেন। আমার মতে, এই শুকিয়ে যাওয়াই হলো তার সফলতার প্রথম কারণ। দ্বিতীয় কারণটি হলো তার প্রজ্ঞা, মেধা ও মননশীলতা। সম্প্রতি দেখলাম, তিনি মহানগরীর যানজট নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এটি একটি কঠিন ও দুরূহ কাজ। আমি পাঁচটি বছর যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য এবং কয়েকটি সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। যানবাহনসংক্রান্ত বেশির ভাগ দায়দায়িত্ব, কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতা মূলত যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। সিটি করপোরেশন নিজ কর্তৃত্ববলে খুব সামান্যই ভূমিকা রাখতে পারে। তার এই দুর্বলতা দূর করার জন্য তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দক্ষিণের মেয়র, পুলিশ বিভাগ প্রভৃতির সাথে ইতোমধ্যেই একাধিক বৈঠক করেছেন। সবশেষে, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হাতিরঝিল থেকে সাত রাস্তা হয়ে টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তায় তিনি ইউলুপ পদ্ধতি চালু করবেন।

আমার বিশ্বাস, ইউলুপ পদ্ধতির যানচলাচল সফল হবে এবং ট্রাফিক জ্যাম অনেকাংশে কমে যাবে। বাংলাদেশের কয়েকজন উদ্যোগী মানুষ বহু দিন থেকে এ পদ্ধতি চালুর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তারা গত সাত-আট বছর ধরে বিভিন্ন মহলে ধরনা দিয়ে আসছিলেন তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি চালুর জন্য। বেশ কিছু দিন তারা আমাকে অবহিত করার চেষ্টা করেছেন। আমার বিশ্বাস তারা জনাব হককে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। যদি তাই হয়- তবে এই প্রকল্প সফল হবে। ইউলুপ পদ্ধতিতে কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল থাকবে না এবং পাবলিক বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানো-নামার জন্য আলাদা জায়গা থাকবে। এ ক্ষেত্রে আমার সুপারিশ থাকবে, যাত্রী উঠানো-নামানোর স্থানে বাসগুলো যেন কোনোমতেই দু-তিন মিনিটের বেশি না থাকতে পারে এবং সেখানে পার্কিং করতে গিয়ে বাসগুলো যেন পেছন বাঁকা করে পেছনের বাসটির জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে।

চিন্তার নতুনত্ব, স্বকীয়তা ও উদ্ভাবনী শক্তির কারণে আনিসুল হক হয়তো তার সীমিত সম্পদ ও ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়েও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন, পয়ঃনিষ্কাশন, কার্বন নিঃসরণ, নগরবাসীর স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও বিনোদনের জন্য ব্যতিক্রম কিছু করতে পারবেন। এবার তার ব্যর্থ হওয়ার দু’টি কারণ বলে আজকের প্রসঙ্গ শেষ করব। তার ব্যর্থতার প্রথম কারণটি সরাসরি না বলে আমার একটি পারিবারিক ঘটনা বর্ণনা করলে বিষয়টি অনেক সহজে বুঝতে পারবেন।

আমার আত্মীয়দের মধ্যে দাদা সম্পর্কীয় দু’জন ব্রিটিশ ভারতে এবং পাকিস্তান জমানায় খুবই নামকরা সফল মানুষ ছিলেন। একজন ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের সদস্য হিসেবে পাকিস্তানের আইজি হয়েছিলেন। অন্যজন নামকরা উকিল হিসেবে প্রথমে আইনমন্ত্রী, পরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছিলেন। দু’টি পরিবারের মহিলা এবং অকর্মণ্য শ্রেণীর পুরুষ সদস্যরা কূটনামি করে বলতে লাগল, আইজি সাহেবের জন্যই তা তিনি মন্ত্রী হতে পেরেছিলেন। অন্য দিকে, মন্ত্রীর লোকজন বলতে পারল- আরে আইজি তো কেন্দ্রীয় সরকারের জয়েন্ট সেক্রেটারির পদ। আইজির কী সাধ্য আছে মন্ত্রীর সামনে তার বিনা অনুমতিতে বসা তো দূরের কথা- দাঁড়িয়ে থাকার। আমাদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খান। তিনি অনেক চেষ্টা করলেন দুই দাদার বিরোধ মীমাংসার জন্য। কিন্তু দাদীদের এক কথা, একচুল ছাড় দেয়া হবে না। ফলে উভয় পরিবারই শেষমেশ অনেক ক্ষয়ক্ষতির পর নিজেদের সম্ভাবনাকে কবর দিলেন।

আনিসুল হক ব্যর্থ হবেন যদি তিনি সর্বদা নিজের পরিণতির ব্যাপারে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তাণ্ডবের কথা স্মরণ করেন, যা কিনা তার ব্যর্থতার দ্বিতীয় কারণ হতে পারে। রাজনীতি হলো, একটি গন্তব্যহীন অভিযাত্রা। এই অভিযাত্রায় কেউ মাঝ পথ থেকে ফেরত আসতে পারে না। সম্ভাব্যের শেষপ্রান্তে হয় তাকে বিজয়ী হতে হবে, নতুবা পরাজিত হয়ে ধ্বংস হতে হবে। আনিসুল হকের মেয়র পদটির দুটো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, মেয়র আনিসুল হক এবং দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের মনোনীত আনিসুল হক। প্রথমটির বাধা-বিপত্তি তিনি অতিক্রম করতে পারবেন। কিন্তু দ্বিতীয়টির বাধা-বিপত্তি, সুবিধা-অসুবিধা এবং ঝক্কি-ঝামেলা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা তিনি তার কয়েকজন সহকর্মী যেমন- সিলেটের মেয়র আরিফুল হক এবং গাজীপুরের মেয়র অধ্যাপক আবদুল মান্নানের পরিণতির দিকে তাকালেই বুঝতে পারবেন। আমার অনুরোধ থাকবে- অনাগত ভবিষ্যৎ তিনি যেন আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেন এবং বর্তমানকে কাজে লাগিয়ে নবতর ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

You Might Also Like