ইয়াবা দিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টা : ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করায় দুই পুলিশ সদস্যকে গণধোলাই দিয়ে নড়িয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ঘটনার সত্যতা থাকায় প্রাথমিকভাবে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়। ক্লোজ হওয়া দুই পুলিশ সদস্যের নাম এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান ও কনেস্টবল ইব্রাহিম হোসেন।

মঙ্গলবার রাতে নড়িয়া উপজেলার ঘরিসার বাজারের রেইনবো ইতালিয়ান আইসক্রীম এন্ড ফাস্টফুডের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম আলী মিয়া বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে অভিযানে না যাওয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় তাদের ক্লোজ করা হয়েছে।

ঘরিসার গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী কাঞ্চন মীর জানান, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ঘরিসার বাজারের রেইনবো ইতালিয়ান আইসক্রীম এন্ড ফাস্টফুডের দোকানে যায় এএসআই মোস্তাফিজ ও কনেস্টবল ইব্রাহীম। এসময় দোকানের মালিক খলিলুর রহমানের দোকানে থাকা  ফ্রিজ চেক করতে চায় ওই দুই পুলিশ। ব্যবসায়ী খলিল ফ্রিজ চেক করতে গেলে এএসআই মোস্তাফিজ ফ্রিজের নিচে একটি প্যাকেট ছুঁড়ে ফেলে। প্যাকেট ছুঁড়ে ফেলার সময় দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাস্টমাররা তা দেখে ফেলে। ওই কাস্টমারদের সামনে ফ্রিজের নিচ থেকে প্যাকেট বের করে এএসআই মোস্তাফিজ ব্যাবসায়ী খলিলকে ইয়াবা রাখার অপরাধে আটকের চেষ্টা করে। এসময় কাস্টমাররা ওই পুলিশকে বাঁধা দিয়ে বলে প্যাকেটটা তো আপনিই ওখানে রেখেছেন। এ নিয়ে পুলিশের সাথে দোকান মালিক খলিল ও কাস্টমারদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাজারের সকল ব্যবসায়ীরা ছুটে এসে দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে নড়িয়া থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ রাতেই তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ঘটনার সত্যতা থাকায় প্রাথমিক ভাবে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়।

ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমার দোকানে এসে মোস্তাফিজ নামে ওই পুলিশ আমার ফ্রিজ চেক করতে চায়। এ সময় আমি ফ্রিজ খুলে দেখাতে গেলে এক ফাঁকে ওই পুলিশ সদস্য একটা প্যাকেট ছুঁড়ে নিচে ফেলে বলে, তুই ইয়াবার ব্যবসা করিস। কিন্তু ঘটনার সময় দোকানের সামনে থাকা কয়েকজন কাস্টমার দেখে ফেলে। পরে উপস্থিত লোকজন অবৈধভাবে আমাকে আটক করায় বাঁধা দেয়। ঘটনার পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজন তাদের আটক রেখে পুলিশকে খবর দেয়।

এ ব্যাপারে এএসআই মোস্তাফিজের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ওই এলাকায় অভিযানে না যাওয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এ কারণে তাদের দুইজনকে ক্লোজ করা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. তানভীর আহম্মেদ (নড়িয়া সার্কেল) বলেন, ওই দুই পুলিশ সদস্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে নড়িয়ার ঘরিসার বাজারে ইয়াবার ব্যবসা হচ্ছে। এই মর্মে একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এরপর স্থানীয় লোকজন পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং বলে এই জায়গার লোকজন ইয়াবা বিক্রি করে না। খবর পেয়ে আমি নড়িয়া থানার ওসিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ খবর নিতে যাই। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে দেখি যাকে আটক করা হয়েছে তার কাছে কোন ইয়াবা ছিল না। ফলে প্রাথমিকভাবে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লেজ করা হয়েছে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

You Might Also Like