ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে মরিয়া ওয়াশিংটন: মস্কোর প্রতিক্রিয়া

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী চলতি বছর ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘের আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। কিন্তু ২০১৮ সালের ৮মে আমেরিকা একতরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিরোধিতা করে আসছে।

এ লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ফের নবায়ন করার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগেই নিরাপত্তা পরিষদের উচিত ইরানের নিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করা।’ এর আগে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির বৈঠকে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে প্রচলিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হবে। তবে এ ক্ষেত্রে মস্কোর অবস্থানের ব্যাপারে চিন্তিত ওয়াশিংটন। কারণ ভিয়েনায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে রুশ প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ বলেছেন, ‘বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যকার নানা পদক্ষেপ অন্য দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান বিরোধী বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘অস্ত্র প্রতিযোগিতা কখনো একতরফা হয় না।’

২০১৬ সাল থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন শুরু হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে ইরানের কাছ থেকে কেউ অস্ত্র কিনতে পারবে না আবার ইরানও অন্য কোনো দেশের কাছ অস্ত্র কিনতে পারবে না। চলতি বছর ১৮ অক্টোবর এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে এবং এর পর থেকে ইরান অনায়াসে অস্ত্র কেনাবেচা করতে পারবে।

ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞার মেয়াদের অবসান ঘটতে চলায় ট্রাম্প প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠেছে এবং নিষেধাজ্ঞা ফের নবায়নের জন্য ইউরোপ ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে এসে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক সমাজকে ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী কোনো সদস্য দেশ ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার মার্কিন দাবির ব্যাপারে সাড়া দেয়নি এবং তারা মার্কিন উদ্বেগকে অন্যায্য ও অমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে। মস্কো জানিয়েছে, ইরানের ব্যাপারে মার্কিন দাবি বেআইনি ও অন্যায্য। শুধু তাই নয় এটা আলোচনারও বিষয় হতে পারে না। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক দফতরের প্রধান জানিয়েছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ী এবং নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই।’

আমেরিকা এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করার দাবি জানাচ্ছে যখন সে নিজেই পশ্চিম এশিয়ায় সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রেতা এবং সম্প্রতি আরব দেশগুলোর কাছে কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে। মার্কিন নীতির কারণে এ অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ সম্প্রতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘মার্কিন নীতি এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমেরিকা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে বারুদের বাক্সে পরিণত করেছে।’

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে, এ অঞ্চলে ইরানের শক্তি বৃদ্ধিতে আমেরিকা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই তারা ইরান বিরোধী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।#

পার্সটুডে

You Might Also Like