ইরানের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌশক্তিতে আমরা খুবই চিন্তিত: মার্কিন সেনাপ্রধান

মার্কিন সেনাপ্রধান জোসেফ ভোটেল দাবি করেছেন, ইরান সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে কর্তৃত্ব বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে সশস্ত্র বাহিনীর কমিটিতে দেয়া বক্তব্যে ওই দাবি করে বলেছেন, ইরান তার পানি সীমায় অত্যন্ত দ্রুতগামী স্পিডবোড ব্যবহার করে ওই অঞ্চলে তার শক্তিমত্তা তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

ইরান বিরোধী পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন সেনাপ্রধান আরো দাবি করেছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা ছাড়াও অন্য দিক দিয়েও হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং সমুদ্রেও তাদের আধিপত্য ও শক্তিমত্তায় আমরা খুবই চিন্তিত।

ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমেরিকা গত তিন দশক ধরে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে হস্তক্ষেপ করছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার অভিযোগ করে আসছে। বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার অজুহাতে এবং পারস্য উপসাগরে শক্তিশালী নৌবাহিনীর উপস্থিতির অজুহাতে আমেরিকা ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা চেষ্টা চালাচ্ছে।

ইরাকের সাদ্দামের মাধ্যমে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার সময় থেকেই আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারা ইরানের জনগণকে ইসলামী বিপ্লবী সরকারের ব্যাপারে হতাশা সৃষ্টি এবং নির্বাচনগুলোতে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতিকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু আমেরিকা কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার শত্রুতামূলক নীতি কখনই বন্ধ হয়নি এবং ইরানকে হুমকি হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অবশ্য এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা ইরানের রয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের প্রায় ২০০০ কিলোমিটার জুড়ে বিশাল সমুদ্র সীমানা রয়েছে এবং ভূকৌশলগত দিয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ইরান এ অঞ্চলে বিদেশিদের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। ইরান বহুবার বলেছে, ১৯৮২ সালের সমুদ্র কনভেনশন অনুযায়ী আমেরিকা ও তার মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালীতে ইরানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার তেহরানের রয়েছে।

যে কোনো স্বাধীন দেশ নিজের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়। ইরানও এর ব্যতিক্রম নয়। এ অবস্থায় আমেরিকা ও ব্রিটেন কোন্‌ উদ্দেশ্যে পারস্য উপসাগর এলাকায় বিশাল সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং এ অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়েছে সে প্রশ্ন সবার। কোনো কোনো আরব দেশ বিদেশিদের মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রেখেছে। আর এর ফলে বিদেশিরা এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও দাবি করেছেন, তাদের ভাষায় এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব ঠেকানোই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

আমেরিকা শুরু থেকেই নিরাপত্তা রক্ষার কথা বলে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও উত্তেজনা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানের সেনা ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বহুবার বলেছে, শত্রুদের যে কোনো আগ্রাসন মোকাবেলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এ অঞ্চলে ইরানের সামরিক উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরী এবং এটা সবার জন্য কল্যাণকর।

You Might Also Like