‘ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তি আমেরিকার জন্য বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ’

ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। দৈনিকটির বিশিষ্ট কলামিস্ট টমাস ফ্রেডম্যান এক নিবন্ধে এই মন্তব্য করেছেন।

 

ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তির স্বীকৃতি পাওয়া যায় খোদ ওবামার বক্তব্যেও। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এমএসএনবিসি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পরমাণু বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হলেও ইরানিদের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব থামবে না, তবে এর ফলে উত্তেজনা প্রশমনের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়তো সম্ভব হবে।

 

ওবামা আন্তর্জাতিক সাগরে ইরানের যুদ্ধ-জাহাজগুলোর উপস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধ-জাহাজগুলোকে মোতায়েন রাখা উদ্দেশ্যহীন বিষয় নয়, চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখাই এর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ‘ আমরা তাদেরকে (ইরানিদেরকে) বলেছি যে, ইয়েমেনের কোনো পক্ষকে যদি অস্ত্র দেয়া হয় যা সাগরে চলাচলকে হুমকিগ্রস্ত করতে পারে, তাহলে তা সমস্যা সৃষ্টি করবে। ‌’

 

সৌদি সরকার যে ওয়াশিংটনের হয়ে ইয়েমেনে প্রক্সি যুদ্ধ করছে সে কথা ভুলে গিয়ে ওবামা ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেছেন, ‘ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সব পক্ষকে একত্রিত করা উচিত। প্রক্সি যুদ্ধ ইয়েমেন সংকট সমাধানের উপায় নয়। আমরা ইরানিদের বলেছি যে, তাদেরকে এ সংকট সমাধানের পক্ষ বা অংশ হতে হবে, সমস্যা সৃষ্টির পক্ষ নয়।’

 

ওবামা ইরানের কাছে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রির সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা এর বিরোধিতা করছি; কারণ, এখনও পরমাণু আলোচনা চলছে।

ওবামা আরও বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা বাজেট হল ৬০০ বিলিয়ন ডলার, আর ইরানের প্রতিরক্ষা বাজেট হল ১৭ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি। তাই ইরান প্রতিরক্ষামূলক কোনো কোনো সিস্টেম যদি অর্জন করেও ফেলে তবুও দরকার হলে আমরা ইরানে জোর খাটাতে পারব।’

 

‘শেষ পর্যন্ত ইরানিদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তাদেরকে সমঝোতা অনুযায়ী আলোচনার টেবিলে আসতে হবে।’ –উপসংহার টানেন ওবামা।

 

এদিকে প্রখ্যাত মার্কিন বিশ্লেষক টমাস ফ্রিডম্যান নিউইয়র্ক টাইমসে লিখেছেন,  সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের চরিত্র বা প্রকৃতির পরিবর্তন না ঘটা ও দেশটির ক্রমবর্ধমান শক্তি আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

 

মার্কিন ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-এর এক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, পরমাণু চুক্তির পর ইরানের সরকার বিরোধীদেরকে সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করা উচিত এবং ইরানের ভেতরে যারা পাশ্চাত্যপন্থী তাদেরকে শক্তিশালী করার জন্যই মার্কিন সরকারের উচিত তার মূল শক্তিকে ব্যবহার করা। ‘বর্তমানে এ সম্পর্কে খুব কম তথ্যই আমাদের কাছে রয়েছে। অবশ্যই দেখা উচিত যে পাশ্চাত্যপন্থীদের কোন ধরনের সহায়তা দরকার যাতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল হলে তাদেরকে একটি প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত করা যায়।

 

এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র গোপন পরিকল্পনা ফাঁসকারী  মার্কিন কর্মকর্তা জেফরি স্টার্লিংকে কঠোর শাস্তি দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে  ওবামার সরকার।  বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজ্জা রাইস দেশটির আদালতে বলেছিলেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে মোকাবেলার জন্য যে কয়েকটি সুপরিকল্পিত  গোপন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল ‘মার্লিন পরিকল্পনা’ ছিল সেসবের অন্যতম। রাইসের বক্তব্যের আলোকে ওই গোপন ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করার জন্য স্টারলিংকে কঠোর শাস্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছে মার্কিন সরকার।

You Might Also Like