‘ইরাকে বিমান হামলা অব্যাহত থাকবে’

ইরাকে কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানোর পর পেন্টাগন বলছে, তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে।

২০১১ সালের ইরাক থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের পর এই প্রথম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোন সামরিক অভিযানে অংশ নিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বলছে, ইরাকী কুর্দিস্তানের রাজধানী ইরবিলের কাছে আইএস-এর ভারি অস্ত্র লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মার্কিন বিমান বাহিনীর দুটো এফএ১৮ বোমারু বিমান থেকে ৫০০ পাউন্ড ওজনের লেসার-নিয়ন্ত্রিত বোমা দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে।

প্রথম দফার হামলার পর, আইএস জঙ্গিদের অবস্থান এবং গাড়িবহরের উপর চারটি ফাইটার জেট এবং একটি মানববিহীন ড্রোন দিয়ে আরো দুবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পেন্টাগন বলছে, দ্বিতীয় দফার হামলায় জঙ্হিদের একটি মর্টার কেন্দ্র ধ্বংসের পাশাপাশি তাদের একটি দলকেও হত্যা করা হয়েছে। এরই একঘন্টা পরে লেজার গাইডেড বোমা দিয়ে একটি সাতটি গাড়ির একটি বহরে হামলা করা হয়েছে।

ভুমধ্যসাগরে থাকা একটি বিমানবাহী ক্যারিয়ার থেকে ওই হামলাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। কুর্দি পেশমার্গার মিলিশিয়া বাহিনী আইএস-এর হাত থেকে ইরবিল শহর রক্ষার জন্য লড়াই করছে।

২০১১ সালে থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এই প্রথম মার্কিন বাহিনী ইরাকের ভেতর সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিলো।

বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই বিমান হামলা অনুমোদন করেন। তবে মি ওবামা বলেন, ইরাকে নতুন করে সৈন্য পাঠানো হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, আইএসের হুমকি মোকাবেলায় এই পদক্ষেপ দরকার হয়ে পড়েছে। “সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান, এবং ইয়েযেদি সম্প্রদায় ছাড়াও নিরাপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে তাদের (আইএস) সন্ত্রাসী তৎপরতা গণহত্যার আগাম ইঙ্গিত।”

আইএস এখন সিরিয়া এবং ইরাকে বিরাট অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে আইএস ইরাকের সবচেয়ে বড় খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর কারাকোষ দখল করে নেয়।

তাদের ভয়ে ইরাকের সংখ্যালঘু ইয়েযিদি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে।

ইরাকে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মারযিও বাবিল বলেছেন, ইয়েযেদি সম্প্রদায় কঠোর সঙ্কটে পড়েছে। তিনি বলেন, তাদের রক্ষায় একটি মানবিক করিডোর তৈরি জরুরী হয়ে পড়েছে।

জুন মাসে যখন আইএস ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল দখল করে নেয়, ইরাকের নুরী আর মালিকির সরকার সামরিক হস্তক্ষেপের আবেদন করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র তখন কান দেয়নি।

বিবিসির প্রতিরক্ষা সংবাদদাতা জনাথন মার্কাস বলছেন, এখন কুর্দিদের সাহায্যে মার্কিন এই সামরিক হস্তক্ষেপের হয়ত নানা বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা হবে।

You Might Also Like