হোম » ইতিহাস বিকৃতিতে শাস্তি বিধানের আইন প্রস্তাব সংসদে গৃহীত

ইতিহাস বিকৃতিতে শাস্তি বিধানের আইন প্রস্তাব সংসদে গৃহীত

admin- Thursday, May 4th, 2017

একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিতে শাস্তির জন্য আইন করার একটি প্রস্তাব জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এ সংক্রান্ত বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

বাপ্পি তার প্রস্তাবে বলেন, “সংসদের অভিমত এই যে, গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তির জন্য আইন প্রণয়ন করা হোক।”

এই প্রস্তাবের ওপর নয়জন সংসদ সদস্য সংশোধনী দেন। তাদের প্রত্যেকেই প্রস্তাবের আগে ‘অবিলম্বে’ এবং ‘জরুরি ভিত্তিতে’ শব্দটি সংযোজন করার প্রস্তাব করেন।

আলোচনা শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন। তবে সংশোধনীগুলো গ্রহণ করা হয়নি।

আনিসুল হক বলেন, “আমি একটি সুখবর দিতে চাই, এ সংক্রান্ত আইনের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ অপরাধ আইন’ শিরোনামের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। অনতিবিলম্বে মন্ত্রিসভায় উঠবে। এই সংসদের বয়সকালে পাস হবে।”

এর আগে মন্ত্রী প্রস্তাবটি গ্রহণ করার কথা জানালে সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাতে সায় দেন। পরে সংসদে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

আইন সভায় কোনো প্রস্তাব গ্রহণ হলে নির্বাহী বিভাগ সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি বঙ্গবন্ধুর খুনি ও দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার একটি প্রস্তাব জাতীয় সংসদে তুললে সেটিও গ্রহণ করা হয়।

সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বাপ্পি বলেন, “সরকার ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এখন প্রয়োজন গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারীদের শাস্তির জন্য আইন প্রণয়ন করা। বিশ্বের ১৭টি দেশে ‘হলোকাস্ট ডিনায়াল ল’ আছে।”

মুদ্রাপাচার মামলায় কারাদণ্ড ও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে গত প্রায় এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন।

এরপরের বছর ডিসেম্বরে বিএনপি সমর্থক মুক্তিযোদ্ধাদের এক অনুষ্ঠানে একাত্তরে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার ওই বক্তব্যের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় শহীদের সংখ্যা, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেন বিএনপির অনেক নেতা।

এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জন্য শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাংসদ ফজিলাতুন নেসা বাপ্পিও সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বিএনপি চেয়ারপাসনকে নিয়ে কথা বলেন।

“খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ইতিহাসকে ম্লান করে দিতে চান। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হলে পাকিস্তানিদের মতো তিনি মর্মাহত হন। শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেন। এটি গর্হিত অপরাধ,” বলেন তিনি।