ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র চুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্ত্রাসবাদ বিরোধী শ্লোগান, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সব ধর্মের মধ্যে সংলাপের কথা বলে সৌদি আরব সফর শুরু করেছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন, সৌদি আরব হচ্ছে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উৎসভূমি।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আজ-জুবায়ের গতকাল রিয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে এ অঞ্চলে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর আহবান জানিয়েছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসনও ইরান বিরোধী জোট গঠনে সৌদি আরবকে নির্বাচিত করার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সৌদি আরব এমনসব দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে যারা তার ভাষায় ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরোধী এবং আমেরিকার নীতিকে সমর্থন করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার অভিযোগ এমন সময় তোলা হচ্ছে যখন এটা সবাই জানে যে, আমেরিকা ও সৌদি আরবই মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে গড়ে তুলেছে এবং তাদেরকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে। এমনকি ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পেছনেও আল কায়দা ও সৌদি আরবের হাত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ মার্কিন কর্মকর্তারাই। বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠগুলোকে আমেরিকা ও সৌদি আরব সহযোগিতা দিচ্ছে এবং এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের হাত আরো শক্তিশালী করাই সৌদি-মার্কিন জোট গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে সৌদি আরব আমেরিকার সঙ্গে সামরিকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি চুক্তি করেছে যাতে এ অঞ্চলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা সৌদি আরবকে ‘দুধের গরু’ মনে করছে এবং যতটা সম্ভব দুধ দুইয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ ধরণের কথা বলা হয়েছিল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান সৌদি আরব সফর থেকে তাদের ওই মনোভাবের প্রভাব পাওয়া যায়।

তবে সব আরব দেশ নিজেদেরকে এ ধরণের বিপদের মুখে ফেলতে চায় না এবং তারা ভালো করেই জানে সৌদি আরব ও আমেরিকার ফাঁদে পা দিলে তারাও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পতিত হবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এ দেশগুলো এ অঞ্চলে সৌদি আগ্রাসী নীতির কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছে। ইয়েমেনসহ বেশ কিছু ইস্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি মিত্র দেশের সঙ্গে সৌদি আরবের মতবিরোধ থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তারের মাধ্যমে মূলত এ অঞ্চলে নিজেদের নড়বড়ে অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে সৌদি আরব নজিরবিহীনভাবে আমেরিকার সঙ্গে হাজার হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি করেছে। যদিও পাশ্চাত্য ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার শত্রুতার অবসান ঘটানো এবং সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন করার জন্যই এই চুক্তি করা হয়েছে বলে সৌদি আরব দাবি করেছে।

কিন্তু সৌদি আরবের কাছে এতো বিপুল অস্ত্র বিক্রির পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আদৌ ভূমিকা রাখবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ সৌদি আরব এসব অস্ত্র মুসলিম নিধনের কাজে ব্যবহার করছে, ইয়েমেনে আগ্রাসনই এর প্রমাণ। তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রিয়াদ ও ওয়াশিংটন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি-মার্কিন নজিরবিহীন সহযোগিতায় অর্থনৈতিক কোনো বিষয় এখানে থাকছে না। বরং ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে যুদ্ধ, রক্তপাত, নৈরাজ্য, বিভাজন ও ফেতনা সৃষ্টি এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

You Might Also Like