ইতিহাসবিদের ভবিষ্যদ্বাণী: ট্রাম্প হারবেন, জিতবেন বাইডেন!

অর্ধেক ভোটার ভোট দিয়ে দিয়েছেন। বাকীরাও (আজ) মঙ্গলবার  দিবেন। আর এর পরই জানা যাবে কে হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।

তবে অনেকেই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হবেন ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন। এমনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মার্কিন ইতিহাসবিদ প্রফেসর অ্যালান লিচটম্যান। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি নির্বাচনে কে বিজয়ী হবেন তার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবং তার ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ ১৯৮৪ সাল থেকে তিনি যথাযথ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জেরুজালেম পোস্ট।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অ্যালান লিচটম্যান। ফক্স নিউজের সঙ্গে কথোপকথনে তার ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছেন। হোয়াইট হাউজ বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী দিতে তিনি যে মডেল ব্যবহার করেন তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ভিত্তিতে তিনি এবার জো বাইডেনের বিজয়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

১৯৮১ সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানী ভøাদিমির কেলিস-বরোকের সঙ্গে তিনি ওই মডেল তৈরি করেন এবং ১৯৯৬ সালে তাদের এই মডেল সম্পর্কে একটি বইয়ে তথ্য প্রকাশ করেন। ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তারা এই মডেল নির্ধারণ করেছেন। এতে মোট ১৩টি ‘কি’ (কবুং) ব্যবহার করেছেন। এগুলো ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে বিজয়ী হবেন তার ভবিষ্যদ্বাণী দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ও তার দলের পুরো পারফরমেন্সকে যাচাই করা হয় এই মডেলে। তারপর বলে দেয়া হয় তাদের দল আরেক দফায় ওভাল অফিসের টিকেট কাটতে সক্ষম হবে কিনা। বিভিন্ন টপিক বা বিষয়েও রপর তাদের ওই ১৩ টি ‘কি’। এর মধ্যে রয়েছে কেলেঙ্কারি, প্রতিনিধি পরিষদে দলীয় নিয়ন্ত্রণ, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক অসন্তোষ, পররাষ্ট্র/সেনাবাহিনীর সফলতা ও ব্যর্থতা, ক্যারিশমা এবং আরো অনেক কিছু। প্রফেসর লিচটম্যান বলেছেন ১৩টি ‘কি’র মধ্যে যে দল ৬টি ‘কি’ বা তারো বেশি পাবে নির্বাচনে তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এর আগে ২০১৬ সালের নির্বাচনে সফল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন প্রফেসর লিচটম্যান। তার ওই ভবিষ্যদ্বাণী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃষ্টি এড়ায়নি। পরে ওয়াশিংটন পোস্টে এমন পূর্বাভাষ দেয়া এক প্রতিবেদনের জন্য লিচটম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই আগের মতো শক্তিশালী অবস্থানে নেই ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে লিচটম্যান বলেছেন, এখন ট্রাম্প ক্ষমতায়। তার বিরুদ্ধে গেছে ৭টি ‘কি’। পক্ষান্তরে ২০১৬ সালে তার পক্ষে ছিল ৬ টি ‘কি’। লিচটম্যানের ভাষায়, আমার ভবিষ্যদ্বাণী হলো, ১৯৯২ সালে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের পর প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনে পরাজিত হবেন ট্রাম্প। আর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হবেন জো বাইডেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনেক পিছনে নিয়ে গেছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে ছিল মাত্র চারটি ‘কি’ বা ফ্যাক্টর। কিন্তু সব ফল এলোমেলো করে দিয়েছে করোনা ভাইরাস মহামারি এবং তার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট। সাথে যুক্ত হয়েছে মিনিয়াপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে ব্যাপক জন অসন্তোষ। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট হারবার্ট হুভারের একটি বক্তব্যকে উদ্ধৃত করেছেন লিচটম্যান। গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দার সময় তিনি তখন ওভাল অফিসে। সে সময় হারবার্ট হুভার বলেছিলেন- ‘আপনি যখন একজন প্রেসিডেন্ট তখন সূর্য্যরে আলো দেয়াকে আপনার কৃতীত্ব বলে দেখেন আপনি। কিন্তু বৃষ্টিকে দোষারোপ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এখন খুব বেশি বৃষ্টি হচ্ছে।’

পরে নিজের ভবিষ্যদ্বাণীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন লিচটম্যান। টুইটারে তিনি লিখেছেন, হোয়াইট হাউজ ইস্যুতে আমার ‘কি’ বা ফ্যাক্টরের ওপর ভিত্তি করে যে চূড়ান্ত ভবিষ্যদ্বাণী, তা অপরিবর্তিত। আমি এখনও বলছি, ১৯৯২ সালের পর প্রথম ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরাজিত হবেন ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী নতুন প্রেসিডেন্ট হবেন জো বাইডেন।