ইতালিতে করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশি আক্রান্ত

ইতালিতে এক বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। করোনাভাইরাস মুক্তির সনদ ছাড়া ইতালিসহ চার দেশের যাত্রীরা বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন না বলে জানান তিনি। আজ বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে আইইডিসিআরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘ইতালিতে আমাদের দেশের এক নাগরিকের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের তথ্য আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাঁরই বাসায় কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে থাকা আমাদের দূতাবাস নিশ্চিত করেছে যে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আক্রান্তের ধরন গুরুতর না, তাই তাঁকে তাঁর বাসাতেই রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

করোনাভাইরাস মুক্তির সনদ ছাড়া ইতালিসহ চার দেশের যাত্রীরা বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন না জানিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, ‘ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও কুয়েতের যাত্রীরা করোনা মুক্তির মেডিকেল সার্টিফিকেট ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেউ আসতে চাইলে সেখানে থাকা আমাদের দূতাবাসে ভিসা আবেদন করেই আসতে হবে। কারণ, যাত্রী যাতায়াতের দিক থেকে এখন উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ।’

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনাভাইারাস মোকাবিলায় জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন স্তরে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় কমিটির সভাপতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জেলা কমিটির প্রধান জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিটি কমিটিতেই থাকবেন স্ব স্ব জেলার সিভিল সার্জন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশে সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, দেশের হোটেলগুলোকে করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং তাদের করণীয় কী সেগুলো জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আইইডিসিআরে করোনা ইস্যুতে নিজে থেকে এসে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন ৪ জন। গতকাল মঙ্গলবার ৬ জনের নমুনা সংগ্রহসহ ১০২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে দেখা হয়েছে। এখন আরও চারজন পর্যবেক্ষণে আছেন। তবে তাদের কারও মধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে করোনা আক্রান্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৯০ হাজার ৮১৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে ১৩০ জন শেষ ২৪ ঘণ্টায় শুধু আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে শুধু চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে আরও ৩১ জন। মোট ৭৩টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। চীন ছাড়া বাকি ৭২টি দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৭৯২ জন। তাদের মধ্যে চীনের বাইরে মোট মৃতের সংখ্যা ১৬৬ জন। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

You Might Also Like