ইকুয়েডরের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়

নতুন পথের যাত্রাটা ভালোমতোই করল ব্রাজিল। কার্লোস দুঙ্গার দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনাও শুভই হলো। কলম্বিয়ার পর এবার ইকুয়েডরের ‘ডর’টা জয় করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে জিতল ব্রাজিল। পার্থক্য হলো, আগের ম্যাচে ব্রাজিলকে সরাসরি জিতিয়েছিলেন নেইমার। দুর্দান্ত ফ্রি কিক থেকে। এবারও ফ্রি কিক থেকেই নেইমার জেতালেন, তবে সরাসরি নয়। তাঁর বানিয়ে দেওয়া বলে ৩১ মিনিটে গোল করেন উইলিয়ান।

গোল না পেলেও গোলের একেবারে কাছাকাছি বেশ কবারই গিয়েছিলেন ব্রাজিলের নতুন অধিনায়ক। ২২ মিনিটেই পেতে পারতেন গোলের দেখা। কিন্তু বল মেরেছেন বাইরে। ২৮ মিনিটেও তার একটা ফ্রি কিক সামান্য ওপর দিয়ে বের হয়ে যায়। নেইমার যে আজ গোলবঞ্চিতই থাকবেন, সেটার ইঙ্গিত মেলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। খুবই কাছ থেকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

তবে এর আগে ব্রাজিলের মুখোমুখি ২৮ ম্যাচের মাত্র দুটিতে জেতা ইকুয়েডরও কিন্তু ছিল ভয়ডরবিহীন। বিশেষ করে ইকুয়েডরের নতুন ভ্যালেন্সিয়া এনার বেশ কবারই ব্রাজিলকে বিপদের মুখে ফেলেছিলেন। ‘সুপারম্যান’ ডাক নামের ওয়েস্ট হামের এই তরুণ ফরোয়ার্ড পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দলকে সমতায় ফেরাতে পারতেন। কিন্তু তাঁর একটি শট ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

টানা দুই জয়ের পরও তাই ব্রাজিল ভক্তরা কতটা খুশি হবেন বলা কঠিন। দুই জয়ই ন্যূনতম ব্যবধানে। হলুদ জার্সির কাছ থেকে সমর্থকেরা বেশি গোলই তো প্রত্যাশা করেন! প্রথম ম্যাচের পরও ব্রাজিল সমর্থকদের ঠিক মন ভরেনি। এ নিয়ে দুঙ্গার সমালোচনাও করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই ম্যাচেও নেইমার ছাড়া বাকিরা খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি। গত ম্যাচে ১০ জনের কলম্বিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের কষ্টার্জিত জয়ের পর রিওর দৈনিক ও দিয়া বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিল, ‘গল্পটা তো একই রকমই থাকল। ব্রাজিলের শুধু একটা খেলোয়াড়ই আছে—নেইমার।’ তা যা-ই হোক, টানা দুই জয়ে দুঙ্গা তৃপ্ত হতেই পারেন।

নেইমার গোল পাননি। তবে গোলের উৎস হয়ে থাকা দারুণ একটা সেট পিসের মূল কারিগর ছিলেন তিনিই। বক্সের বেশ বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল ব্রাজিল। সেখান থেকে সরাসরি গোলে কিক না নিয়ে আলতো পাসে বক্সের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা নেইমারকে বল ঠেলে দেন অস্কার। দুর্দান্ত এক চিপ করে খেলোয়াড়দের জটলার ওপর দিয়ে নেইমার বল পাঠিয়ে দেন বক্সের ভেতরে বাঁ দিকে থাকা উইলিয়ানকে। আড়াআড়ি শটে উইলিয়ান বল জড়িয়ে দেন জালে। চেলসি মিডফিল্ডারের জাতীয় দলের হয়ে এটি তৃতীয় গোল। আগের দুটো গোলও এসেছিল প্রীতি ম্যাচে। সূত্র : ইএসপিএনএফিস।

You Might Also Like