ইউক্রেন সংকটের কূটনৈতিক সমাধান চায় পশ্চিমাদেশ

চলমান ইউক্রেন সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে নতুন একটি শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পশ্চিমাদেশগুলো।

এই লক্ষ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থান করছেন।

নতুন শান্তি চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কিয়েভে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল।

বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে পোরোশেঙ্কো বলেন, ম্যার্কেল ও ওলাঁদের সঙ্গে বৈঠকে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জার্মান ও ফ্রান্স নেতারা ইউক্রেন ভ্রমণ করায় ওই বিবৃতিতে ধন্যবাদ জানানো হয়।

বৈঠকের পর জার্মান ও ফ্রান্স নেতারা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বৈঠককে সামনে রেখে ওলাঁদ বলেন, ‘তিনি ও ম্যার্কেল ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে একটি শান্তি প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছেন, যেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’ সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন চলতে পারে না বলে সতর্ক করেন তিনি।

নতুন শান্তি প্রস্তাবে ইউক্রেনের বিদ্রোহী রাজি করাতে আজ শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ম্যার্কেল ও ওলাঁদ।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী আর্সেনি ইয়াতসেনউকের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন সংকটের কূটনৈতিক সমাধান চায়। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ব্যাপারে চোখ বন্ধ রাখবে না ওয়াশিংটন। আমরা শান্তি চাই। কিন্তু ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এর অন্য কোনো বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।

গত বছর ইউক্রেনের রুশপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানোকোভিচকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তার সমর্থকরা সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে। দেশটির রুশভাষী পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো দখল নেয় রুশপন্থি বিদ্রোহীরা। বিদ্রোহীদের হটাতে ইউক্রেন সরকার সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমাদেশগুলোর অভিযোগ, রাশিয়া বিদ্রোহীদের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ক্রেমলিন ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি।

You Might Also Like