ইউক্রেন কেলেঙ্কারিতে ট্রাম্পের সঙ্গে ফাঁসছেন পম্পেও

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের প্রকাশ্য শুনানিতে বিস্ফোরক সাক্ষ্য দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক গর্ডন সন্ডল্যান্ড।

সাক্ষ্যে ট্রাম্পের সব গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন তিনি। বাদ দেননি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে।

সাক্ষ্যে তিনি জানিয়েছেন, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনকে চাপ দেয়ার নির্দেশ ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।

মাইক পেন্স ও পম্পেওর সঙ্গে সদ্য পদত্যাগ করা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টনও জানতেন তারা কী করছেন এবং কেন করছেন। অন্যতম শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক সন্ডল্যান্ডের এ বিস্ফোরক সাক্ষ্য-প্রমাণে ট্রাম্পের সঙ্গে ফেঁসে যাচ্ছেন পম্পেও এবং পেন্সও।

এ সাক্ষ্যের পর হোয়াইট হাউসের সাবেক নীতিবিষয়ক আইনজীবী রিচার্ড ডব্লিউ পেইন্টার বলেছেন, ‘ট্রাম্পের সব খেল খতম।’ তবে এতেও চুপ করছেন না ট্রাম্প।

চিরচেনা ভঙ্গিতে অভিশংসন শুনানিকে ‘উইচ হান্ট’ বলে অভিহিত করে এখনই এর ইতি টানার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গর্ডন সন্ডল্যান্ড। অভিশংসন তদন্তে এখন যেসব কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের সবার মতোই ট্রাম্প সহযোগী হিসেবে রাজনৈতিক পরিচয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বুধবার হাউস ইনটেলিজেন্স কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন সন্ডল্যান্ড।

তিনি বলেন, তার দৃঢ়বিশ্বাস, ট্রাম্প তার আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। এজন্য নিজের ব্যক্তিগত আইনজীবী ও সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র রুডি গুইলানির সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের কাজ করতে বাধ্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ অনুসরণ করেছি।’ তবে সাক্ষ্য দেয়ার পরই তার এই সহযোগীকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘সন্ডল্যান্ড কে, তাকে আমি চিনি না। তার সঙ্গে আমার কখনও কথা হয়নি।’

অভিযোগ রয়েছে, জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে ইউক্রেনকে চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এজন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন ইউক্রেনকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা।

তিনি ওই সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, যাতে ইউক্রেন বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার শপথ ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার জন্য বৈদেশিক সহায়তাকে ব্যবহার করা যুক্তরাষ্ট্রে অন্যায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেননি বলে জোর দিয়ে দাবি করছেন। তবে তিনি আসলেই এসব করেছেন কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাকে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

You Might Also Like