‘ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এমএইচ১৭ গুলি করে নামিয়েছে’

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে গত বছর মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার পেছনে ইউক্রেন সরকারের হাত ছিল। এ কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার একজন ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণকারী কর্মকর্তা।

রাশিয়ার ‘বুক’ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নির্মাণকারী ফার্মে কর্মরত মিখাইল মালিশেভস্কি আজ মস্কোয় বলেছেন, ভূপাতিত বিমানটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে এতে একটি পুরনো বুক-এমআই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এখনো ইউক্রেনের অস্ত্রাগারে রয়েছে।

মালিশেভস্কি বলেন, বিধ্বস্ত ফ্লাইট এমএইচ১৭-এর ধ্বংসাবশেষ থেকে গৃহিত ছবি পরীক্ষা করে তিনি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বুক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান আলমাজ-আনতেই কনসোর্টিয়ামের পরিচালক ইয়ান নোভিকভ বলেছেন, বুক ক্ষেপণাস্ত্রের যে মডেলটি এমএইচ১৭’কে গুলি করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে তা এখন আর রাশিয়ার সেনাবাহিনী ব্যবহার করে না; তবে তা এখনো ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর কাছে রয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয় পূর্ব ইউক্রেনের দূরবর্তী গ্রাম জারোশেংস্কি থেকে যা কিয়েভ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

২০১‌৪ সালের ১৭ জুলাই ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেস্ক অঞ্চলের আকাশে বিধ্বস্ত হয় এমএইচ১৭। বিমানটি নেদারল্যান্ডের আমস্টার্ডাম থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর যাচ্ছিল। এটি বিধ্বস্ত হওয়ায় এর ২৯৮ আরোহীর সবাই নিহত হয়। বিমানটি ‘অজ্ঞাত’ কারণে বিধ্বস্ত হয় বলে এখন পর্যন্ত ঘোষিত দলিল থেকে জানা যায়।

ইউক্রেনের পাশ্চাত্যপন্থি সরকার ও পশ্চিমা দেশগুলো ওই বিমান ভূপাতিত হওয়ার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, রুশপন্থি অস্ত্রধারীদের নিয়ন্ত্রিত স্নিজনে শহর থেকে বিমান বিধ্বংসী গোলা নিক্ষেপ করে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানটিকে নামানো হয়েছে। কিন্তু এ ভয়াবহ ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা বরাবরই অস্বীকার করেছে রাশিয়া। অবশ্য কোনো কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, তারা ইউক্রেনের একটি জঙ্গি বিমানকে এমএইচ১৭-এ হামলা চালাতে দেখেছেন।

You Might Also Like