ইউএস ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ডাব্লিউআরটিপি’র (WRTP) গবেষণায় বিশ্বের পাঁচ নিকৃষ্ট সরকার প্রধান

গত একশত বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাঁচজন সরকার প্রধানের নাম ঘোষণা করেছে নিউ ইয়র্কে অবস্থিত উত্তর আমেরিকার মানবাধিকার সংস্থা ‘উই আর দ্যা পিপল’ (WRTP) WE ARE THE PEOPLE. সংস্থাটি গত একশত বছরের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাঁচজন সরকার প্রধানের নাম নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি তদন্ত চালায় এবং এ উদ্দেশ্যে হারভার্ড ইউনিভার্সিটি’র প্রফেসর ডক্টর জিলানী ওয়ার্সীকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি প্যানেল তৈরী করে ইউএস ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘উই আর দ্যা পিপল’। এই প্যানেলে অপর দুই সদস্য ছিলেন ডেভিড কর্নগোল্ড (DAVID KORNGOLD, ESQ) ATTORNEY AT LAW এবং জন পি ডিমাইও (JOHN PETER DEMAIO, ESQ)। উল্লেখ্য, প্যানেল চেয়ডারম্যান ডক্টর জিলানী হারভার্ড ইউনিভার্সিটি’র চার বার (academic-excellence) স্বর্ণপদক লাভ করেছেন। খবর বিজ্ঞপ্তির।
ডক্টর জিলানীর নেতৃত্বে গঠিত উপরোক্ত প্যানেলটি দীর্ঘ একবছর বিশ্বের ২৫জন স্বৈরশাসকের উপর গবেষণা চালান। ঐসব শাসকদের ব্যক্তিগত জীবন বৃত্তান্ত, শিক্ষা, কিভাবে নির্বাচিত হয়েছে, তাদের শাসন পদ্ধতি, সফলতা এবং ব্যর্থতা, দেশ ও জনগণের উপর তাদের নির্মমতা, ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ঐসব দেশের উন্নয়ন এবং অবনতির কথা বিবেচনা করে প্রথমে বিশ্বে একনায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভকরা ২৫জন সরকার প্রধানকে নির্বাচন করা হয়। পরবর্তীতে ঐ ২৫জন স্বৈরশাসকের জীবনবৃত্তান্ত বিষদভাবে পর্যালোচনা করে তাদের দেশীয় সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং বুদ্ধিজীবীদের পর্যবেক্ষণ ও মস্তব্যের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয় পাঁচজনকে।
১. শেখ হাসিনা (SHEIKH HASINA 2009 – PRESENT) BANGLADESH
প্রথমে দেশের জনগণ এবং বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে গুম, খুন এবং রাস্তাঘাটে কুকুর বিড়ালের মতো হত্যার মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরী করে। পরবর্তীতে প্রকাশ্য ব্যালট চুরি করে সীমাহীন কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ। প্রথমে ক্ষমতা এবং পয়সার লোভে পরে জীবন বাঁচানোর তাগিদে দেশের সার্বভৌমত্বকে ভারতের হাতে তুলে দিয়ে দেশের জনগণকে জিম্মি বানিয়ে রেখেছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সীমাহীন দুর্নীতি, গুম, খুন, ধর্ষণ এবং রাহাজানী এখন দেশটির প্রতিমুহূর্তের ঘটনা। মাফিয়া পদ্ধতির সরকার পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের দুইজন প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার মাধ্যমে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে।
২. স্যামুয়েল ডিওই (SAMUEL DOE: 1080-1990) LIBERIA
কয়েকজন সিপাহী সহ মিলিটারি ক্যু এর মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম টলবার্টকে হত্যা করে ক্ষমতা গ্রহণ করে। আমেরিকা তার অভ্যুথ্যানকে সমর্থন করে এবং পরবর্তীতে শেখ হাসিনার মতো একই কায়দায় দেশবাসীর মধ্য আতঙ্ক তৈরী এবং ভোট চুরির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করে।স্যামুয়েল ডিওই আর্মির মাস্টার সার্জেন্ট ছিলেন বিধায় তিনি সেনাবাহিনীর পদস্থ অফিসারদের পছন্দ করতেন না। ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথে তিনি শেখ হাসিনা পিলখানা হত্যাকণ্ডের মতোই সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে পদস্থ কর্মকর্তাদের হত্যা করা শুরু করেন। দেশের ব্যাংকগুলো অর্থশূন্য হয়ে পরে এবং দেশের বিচারপতিদেরকে আদালতের ভিতরেই বন্দুকের নলের দ্বারা সিধান্ত নিতে বাধ্য করতেন। কথিত রয়েছে যে স্যামুয়েল ডিওই আমেরিকাকে অবাধ হস্তক্ষেপের সুবিধা দিয়ে নিজেকে পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা তার হয়নি।দেশের বিক্ষুব্দ জনতা তাকে নির্মমভাবে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
৩. `হিপোলিত মেহিয়া (HIPOLITO MEJIA: 2000-2004) DOMINICAN REPUBLIC
দেশের যুবক সম্প্রদায়কে ড্রাগে আসক্ত করে তাদেরকে দিয়ে শত শত মানুষকে গুম এবং খুনের মাধ্যমে ২০০৪ তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। খুব একটা লেখাপড়া জানা না থাকলেও তিনি শেখ হাসিনার মতোই বিদেশ থেকে ডিগ্রী ক্রয় করে নিয়ে আসতেন। গোপনে তিনি মেক্সিকান ড্রাগ লর্ডদের সহায়তায় প্রচুর পয়সার মালিক হন কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরকে পুরোপুরি দেউলিয়া করে দেন। তার সন্তানরা দিনে দুপুরে ব্যাঙ্ক ডাকাতি থেকে শুরু করে ধর্ষণ এবং হত্যাযজ্ঞ চালাতো।কথিত রয়েছে যে হিপোলিত মেহিয়া যুবতী মেয়েদেরকে দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে বিপদে ফেলে সুযোগ নিতেন।নিজ স্ত্রীকে হত্যা করার পর তার সন্তানদের কেউকেউ তার বিরোধীচরণ করে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নিজ পরিবারের লোকজনরে তাকে ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে।
৪.জোসেফ এস্ত্রাদা (JOSEPH ESTRADA: 1998-200) PHILIPPINE
পশ্চিমা দেশগুলোকে খুশী করার জন্য আমেরিকার সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পরপরই তিনি মুসলিম অধ্যূষিত এলাকায় সামরিক অভিযান চালাতে শুরু করেন।সকল মুসলিমরা জঙ্গী, এটা প্রমানের জন্য তিনি কোনো কিছুই বাদ দেননি। গুম এবং খুনের মাধ্যমে মুসলিমদেরকে বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করার পর জোসেফ এস্ত্রাদা তার অনুসারীদের দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাড়িঘর দখল করিয়ে নিজে পয়সা বানাতেন।সীমাহীন দুর্নীতি, অপরাধ মাত্রার অত্যাধিক বৃদ্ধি এবং বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসের মাধ্যমে ফিলিপাইনে মাফিয়া সম্রাজ্য কায়েম হয়। কিন্তু ফিলিপাইনের লোকজন বাংলাদেশীদের মতো দলকানা নয় বিধায় জোসেফ এস্ট্রাদা দুই বছর পর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তাকে দুর্নীতির দায়ে জেলে পাঠানো হয়।
৫. নেগুয়েন কাও ক্যে (NGUYEN CAO KY: 1965-1967)SOUTH VIETNAM
দেশ ও দেশের জনগণের কথা চিন্তা না করে নেগুয়েন ক্যে আমেরিকাকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশাধিকার প্রদান করে। আমেরিকার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হাজার হাজার ভিয়েতনামীদেরকে হত্যা করা হয়। ভিয়েনামের সরকারী কোষাগারকে শুন্য করে মার্কিন সৈন্যদের আরামায়েশের ব্যবস্থা করা হয়। ভিয়েতনামীদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। কেড়ে নেয়া হয় ভোটঅধিকার।ভিয়েতনামীদের জোর করে জাতীয় আর্মিতে নিয়োগ দিয়ে আমেরিকান সৈন্যদেরকে রক্ষা করা হতো। সরকারী চাকুরীতে সংখ্যালঘুদের নিয়োগ দেয়া হতো। আমেরিকা তাকে বহু খেতাবে ভূষিত করেছে কিন্তু ক্ষমতা ছাড়ার পূর্ব মুহূর্তে খোদ আমেরিকা ই তাকে মেরে ফেলার শেষ করে।

You Might Also Like