হোম » আ স ম রবের বাসায় দলীয় নেতাদের বৈঠকে পুলিশি বাধা: খালেদা জিয়ার তীব্র নিন্দা

আ স ম রবের বাসায় দলীয় নেতাদের বৈঠকে পুলিশি বাধা: খালেদা জিয়ার তীব্র নিন্দা

ঢাকা অফিস- Saturday, July 15th, 2017

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজ এক বিবৃতিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসায় রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠকে পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া সরকারকে সকল গণবিরোধী তৎপরতা ও জুলুমের পথ থেকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলে, অন্যথায় যুগে যুগে সকল স্বৈরাচারের মতোই পরিণতি বরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার আ স ম আব্দুর রবের উত্তরার বাসায় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এক ঈদ-পূনর্মিলনী বৈঠক চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিত হয়ে অতি দ্রুত সভা সমাপ্তির জন্য তাগিদ দেয় । এর পর বৈঠক শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসার বাইরে পুলিশ অবস্থান করে।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, দেশকে একদলীয় দুঃশাসনের চরম অন্ধকারে নিপতিত করতে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন সরকার এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আর এই চরম সীমালঙ্ঘনের কারণেই দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে উন্মুক্ত কোনো স্থানেই নয় বরং ঘরোয়া পরিবেশেও সভা কিংবা আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠান করতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

বেগম জিয়া মনে করেন, একটি অশুভ উদ্দেশেই দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আ স ম আব্দুর রবের বাসায় পুলিশ প্রবেশ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে, রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে একটা ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে না পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী থাকার জন্য বর্তমান সরকার যাদের প্রতিপক্ষ মনে করে তাদেরকে নির্মূল করতে নানা পন্থা অবলম্বন করেছে, তারই অংশ হিসেবে রবের বাসায় বৈঠক ঠেকাতে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেত্রী।

বিএনপি প্রধান বলেন, আ স ম আব্দুর রবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সভায় পুলিশি হস্তক্ষেপে আবারও প্রমাণিত হল রাষ্ট্র এখন অমানবিক এবং চরম গণবিরোধী। দেশে গণতন্ত্র শূন্যতার কারণেই আইনের শাসন নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। সরকারি মদদে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভোটারবিহীন সরকারের আনুগত্য করতে গিয়ে তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।

খালেদা জিয়া আরো বলেন, বিরোধী দল ও বিরোধী মত দমন করতে পুলিশকে লাগামহীন লাইসেন্স দেয়ার কারণেই সামাজিক অপরাধগুলো প্রশ্রয় পাচ্ছে তীব্র মাত্রায়। সমাজে নৈরাজ্য ও অনাচার বৃদ্ধির কারণেই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন ভয়-ভীতি শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

ওদিকে, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, দেশে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকার যা খুলি তা-ই করছে। জনগণের মতামতসহ কোন কিছুতেই তারা তোয়াক্কা করছে না। কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই।
আজ তোপখানাস্থ গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাম মোর্চার সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক লিখিত বক্তব পাঠ করেন। তিনি বলেন, সরকার ও সরকারি দল এখন পুরোপুরি বেপরোয়া। তাদের ক্ষমতা আর মুখের কথাই যেন আইন। আইনের শাসনের কথা বলে তারা প্রতিদিন আইন বিরুদ্ধ কাজ করে চলেছে। মানবাধিকারের কথা বলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসসহ দমন-পীড়নের নানা পথে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের ফ্যাসিবাদি ততপরতা নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাজির হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, গণসংহতির আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহবায়ক হামিদুল হকসহ প্রমুখ ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।