আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা: ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

রায়ে ৭ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত ৮ জুন এ দিন ধার্য করেন।

২০০৫ সালে ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলার শুনানি শুরু করেন আদালত। বার বার বেঞ্চ পরিবর্তনের কারণে মামলাটি দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকে। অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ থেকে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলার পেপার বুক (নথিপত্র) পাঠ শুরু হয়। শুনানি শেষ হয় গত ৮ জুন।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ৭ মে নিজ বাসভবনের সামনে সাবেক টঙ্গী পৌর ১০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার। এসময় স্কুল ছাত্র রতন নিহত ও কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মহলসহ আরো ১০/১২ জন আহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরশাদের পুত্রখ্যাত জাতীয় ছাত্র সমাজের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম দীপুকে প্রধান আসামি করে আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতি পর দিন টঙ্গী থানায় ১৭ জনকে এজাহারভূক্ত করে একটি হত্যা মামলা নং- ৭(৫)২০০৪ দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মো. খালেকুজ্জামান প্রায় ২ মাস তদন্ত শেষে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এই মামলায় ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালত-১-এর বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন ২০০৫ সালে প্রধান আসামি নূরুল ইসলাম দীপু ও তার সহোদর শহীদুল ইসলাম শিপুসহ মোট ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী সরকার পরিবারের সদস্য তৎকালীন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল ইসলাম সরকারও রয়েছেন। মামলায় তাকে হুকুমের আসামী করা হয়। আসামীদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম আদালতে আত্মসমর্পন করে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে জামিনের আবেদন করেন। এই মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারসহ বর্তমানে ১৮ জন আসামি কারাগারে এবং প্রধান আসামি নূরুল ইসলাম দীপুসহ ১০ জন পলাতক রয়েছেন। তা ছাড়া কারাগারে থাকা অবস্থায় ইতিমধ্যে মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি রতনসহ দু’জন মারা গেছেন। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালেই হাইকোর্টে আপিল করেন কারাগারে আটক আসামিরা।

You Might Also Like