‘আ’লীগের উচিত বিএনপিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো’

বাংলাদেশের চলমান অচলাবস্থা, সহিংসতা বন্ধ এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উচিত বিএনপিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো। অপরদিকে বিএনপির উচিত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসা। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জরুরিভিত্তিতে সংকট প্রশমনে পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহভাবে অস্থিতিশীল হতে পারে দেশ।

ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) সোমবার ম্যাপিং বাংলাদেশস পলিটিক্যাল ক্রাইসিস (বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট চিহ্নিতকরণ) শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনটিতে গ্রুপটি এসব তথ্য তুলে ধরে।

আইসিজি তাদের প্রতিবেদনে উভয় দলকে সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কমাতে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়। প্রতিবেদনে তিনটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে আইসিজি উল্লেখ করে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। দ্বিমত দমনের ক্ষেত্রে সহনশীল আচরণ করতে হবে। আইনশৃংখলা বাহিনীর মাধ্যমে দমন-নিপীড়ন কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও নির্বাচনী সংস্কারের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের উচিত বিএনপিকে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানো। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করা প্রয়োজন। এ নির্বাচনের মাধ্যমেও দুই দলের মধ্যে সংলাপের সূত্রপাত হতে পারে।

প্রতিবেদনের শেষ পয়েন্টে আইসিজি উল্লেখ করে, বিএনপিকে অহিংস রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়তে হবে। বর্তমান সহিংসতা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে অর্থপূর্ণ সমঝোতায় বসতে হবে।

সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি চলমান জাতীয় সংসদের এক বছর পূর্তির দিনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিপরীতমুখী কর্মসূচির পর থেকে সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটেই চলছে। ওই নির্বাচন বর্জন করার পর বিএনপি চাইছে রাজপথের শক্তির মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে উৎখাত করতে এবং ক্ষমতায় যেতে। দেশটিতে যুদ্ধাপরাধের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল ঐক্য গড়া থেকে আরও বিভাজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চরমপন্থী ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই ইসলামিক সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়েছে। যা গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য হুমকি। সহিংসতায় অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিদিনই আহতদের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমান সময়ে দুদলের রেষারেষি বাংলাদেশকে অচলাবস্থার শেষপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আপসের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষেত্রকে পুনর্জীবিত করা উচিত। নতুবা রাজনীতিতে হিংসা ও সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া দুটি প্রধান বড় রাজনৈতিক দল একে অন্যের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে না চাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরস্পরের শ্রদ্ধাবোধ নেই। এতে করে দেশটিতে সরকারি এবং বিরোধী দল কারোরই আইনের শাসনের প্রতি আস্থা নেই।

You Might Also Like