হোম » আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি আজারবাইজানের

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি আজারবাইজানের

ঢাকা অফিস- Wednesday, May 17th, 2017

আজারবাইজান দাবি করেছে, বিতর্কিত নাগরনো-কারাবাখ এলাকায় আর্মেনীয়দের একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে তারা।

এর জোর প্রতিক্রিয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বলা হয়, সোমবার কারাবাখ সীমান্তের ফিসুলি-খোজাভেন্দ এলাকায় একটি আর্মেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ওসা) ও তার সেনাদের ধ্বংস করে দিয়েছে। আজারবাইজানি বিমানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নাগরনো-কারাবাখের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, আজারবাইজানের এক হামলায় তাদের যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তবে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আজারবাইজানি সেনাবাহিনীর প্ররোচণার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

আর্মেনিয়া ও আজেরবাইজান ১৯৯১ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই চলছে। কাগজে-কলমে কারাবাখ আজারবাইজানের অংশ হলেও ১৯৯৪ সালের বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধের পর থেকে তা স্থানীয় আর্মেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। যদিও আজারবাইজানিদের দাবি, আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীও তাদের প্রত্যক্ষ সহায়তা করছে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এই যুদ্ধে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়। যদিও দুই দেশের মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

২০১৬ সালের এপ্রিলে সীমান্তে সংঘর্ষের পর নতুন করে যুদ্ধাবস্থার শুরু হয়। ক্রমাগত সহিংসতা দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে পরিণত হয়। চার দিনব্যপী তীব্র সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১১০ জন নিহত হয়। রাশিয়ার তত্ত্বাবধানে সেবার যুদ্ধবিরতি হলেও থেমে থাকা শান্তি আলোচনা চালু করার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

কয়েক মাস আগে ফেব্রুয়ারিতে গোলাগুলিতে কিছু আজারবাইজানি ও কারাবাখ সেনা নিহত হয়।

রাশিয়া এই এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী এবং তারা অতীতে সংঘর্ষ বন্ধে মধ্যস্থতা করেছে। ঘনিষ্ঠ মিত্র আর্মেনিয়ায় রাশিয়ার হাজারো সেনাসদস্য ও সমরাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে।